বোনকে টাকার লোভ দেখিয়ে বিদায়, দিদিকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক লালসা! বেরেলির ছাত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে হাড়হিম করা সত্য

উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে এক নাবালিকা ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে এল এক নারকীয় সত্য। যে ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠছে আমজনতা। লোকলজ্জা আর মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক নাবালিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেও, তার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসতেই খুলে গেল অপরাধের রুদ্ধদ্বার। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক ওই ছাত্রীকে দিনের পর দিন ভয় দেখিয়ে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত জিশানকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ছোট বোনকে সরিয়ে চলত লালসার খেলা
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, মিরগঞ্জ থানা এলাকার ওই কিশোরী প্রতিদিন তার ছোট বোনের সঙ্গে স্কুলে যেত। আর সেই পথেই ওত পেতে থাকত অভিযুক্ত জিশান। তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত যুবক প্রতিদিন দুই বোনকে মাঝরাস্তায় আটকাত। এরপর ছোট বোনকে টাকার লোভ দেখিয়ে সেখান থেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিত সে। ছোট বোন চলে গেলেই বড় বোনকে ভয় দেখিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যেত জিশান। সেখানে চলত পাশবিক অত্যাচার। প্রতিবাদ করলে বা বাড়িতে জানলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকিও দেওয়া হতো তাকে।

২৭শে এপ্রিলের সেই কালরাত
গত ২৭শে এপ্রিল অভিযুক্ত আবারও দুই বোনকে রাস্তায় আটকায়। বরাবরের মতো ছোট বোনকে সরিয়ে দিয়ে সে বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে যায়। সেখানে নাবালিকা ছাত্রীর ওপর চলে চরম নির্যাতন। সেদিন বাড়ি ফেরার পর থেকেই গভীর মানসিক অবসাদে ডুবে গিয়েছিল ওই কিশোরী। বাড়িতে সে সময় তার মা-বাবা কেউই ছিলেন না (বাবা দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন)। সেই সুযোগেই অপমান আর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় সে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলল প্রমাণের হদিশ
প্রাথমিকভাবে পরিবারটি আত্মহত্যার কারণ বুঝতে না পারলেও, পরদিন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। রিপোর্টে দেখা যায়, ছাত্রীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর পুলিশ ওই ছাত্রীর ছোট বোনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং জিশানের সমস্ত কুকীর্তির কথা ফাঁস করে দেয়।

প্রযুক্তির জালে ধরা পড়ল অপরাধী
পুলিশ সুপার (এসপি) অংশিকা ভার্মার নেতৃত্বে ঘটনার তদন্তে নামে একটি বিশেষ দল। সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইলস এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অভিযুক্ত জিশানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে অভিযুক্ত। পুলিশ তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠিয়েছে। এক নাবালিকার মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোক ও উত্তেজনার ছায়া নেমে এসেছে।