মাঝসমুদ্রে প্রমোদতরীতে মৃত্যুমিছিল! করোনার পর এবার কি ‘হান্টাভাইরাস’ অতিমারির থাবা? কপালে চিন্তার ভাঁজ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

বিশ্বজুড়ে যখন একের পর এক ভাইরাসের দাপট নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই আটলান্টিক মহাসাগরের বুক থেকে ভেসে এল এক আতঙ্কিত করার মতো খবর। একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে বা ক্রুজ শিপে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের কবলে পড়ে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’-এর অন্দরে।
কীভাবে ছড়াল এই সংক্রমণ?
সাধারণত হান্টাভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ, যা মূলত আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মল বা মূত্র থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, প্রমোদতরীতে থাকা যাত্রীরা কোনোভাবে সংক্রামিত ইঁদুরের সংস্পর্শে এসেছিলেন। সেখান থেকেই এই মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
মানুষ থেকে মানুষে কি ছড়াতে পারে এই ভাইরাস?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, হান্টাভাইরাস কি কোভিডের মতো একজন থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে সক্ষম? এই বিষয়ে মহামারী বিশেষজ্ঞ ডঃ যুগল কিশোর জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো আনুষ্ঠানিক নজির বা প্রামাণ্য নথি নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, সাধারণত এটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রামিত হয় না।
তবে আশঙ্কার কালো মেঘ পুরোপুরি কাটছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভাইরাসের স্ট্রেইন বা জিনগত বিন্যাস পরিবর্তিত হয়ে কোনো শক্তিশালী ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হয়, তবে সংক্রমণের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও বর্তমানের স্ট্রেইনটি নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা
ডক্টর কোশির অভয় দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের কোনো দেশে বর্তমানে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নেই। এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রমোদতরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ না থাকলেও এই ভাইরাসের লক্ষণগুলি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
হান্টাভাইরাসের প্রধান উপসর্গগুলি কী কী?
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে হান্টাভাইরাস বাসা বাঁধলে নিচের লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে:
তীব্র জ্বর ও ক্লান্তি।
পেশিতে প্রবল ব্যথা।
শ্বাস নিতে চরম কষ্ট হওয়া।
দুর্বলতা ও মাঝেমধ্যে তীব্র মাথাব্যথা।
বাঁচার উপায় কী?
এই ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ঘরবাড়ি বা কর্মক্ষেত্রে ইঁদুরের উপদ্রব বন্ধ করতে হবে এবং সরাসরি ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। সুস্থ থাকতে পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই এখন প্রধান অস্ত্র।