‘সবই টাকার খেলা!’ রাজনৈতিক প্রচার নিয়ে বিস্ফোরক ‘স্মার্ট দিদি’ নন্দিনী, তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

নির্বাচনের মরসুমে সরগরম টলিউড থেকে সোশ্যাল মিডিয়া। কিন্তু রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা বা প্রচার করা কি শুধুই আদর্শের লড়াই, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে মোটা অঙ্কের লেনদেন? এবার সেই বিতর্ক উসকে দিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ, ‘স্মার্ট দিদি’ খ্যাত নন্দিনী গঙ্গোপাধ্যায়। সরাসরি জানালেন, রাজনৈতিক প্রচার তাঁর কাছে স্রেফ একটা ‘পেইড প্রমোশন’।

‘আমি কারও লোক নই’, সাফ কথা নন্দিনীর
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে নন্দিনীকে বলতে শোনা যায়, তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক বা কর্মী নন। তাঁর কথায়, “আমি কোনো দল করি না। ওটা একটা কাজ ছিল, যার জন্য আমি টাকা পেয়েছি। এটাকে প্রমোশন হিসেবেই দেখা উচিত।” নন্দিনীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। যেখানে অনেক তারকা নির্দিষ্ট আদর্শের কথা বলে প্রচারে নামেন, সেখানে নন্দিনীর এই সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি অনেককেই চমকে দিয়েছে।

প্রচারের আড়ালে কি কালো টাকা?
নন্দিনীর এই মন্তব্যের পর থেকেই বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনের সময় বহু ইনফ্লুয়েন্সার ও অভিনেতা-অভিনেত্রী বিভিন্ন দলের হয়ে প্রচার করেন। কিন্তু এই লেনদেন কি সবটাই সাদা টাকায় হয়? নন্দিনীর দাবি অনুযায়ী, তিনি কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছেন। কিন্তু স্টুডিও পাড়ার অন্দরে গুঞ্জন, এই ধরণের প্রচারের ক্ষেত্রে অনেক সময় বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।

টলিপাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি কেবল নন্দিনীতে সীমাবদ্ধ নেই। এবারের নির্বাচনে টলিউডের একঝাঁক তারকাকে বিভিন্ন দলের হয়ে ময়দানে নামতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সরাসরি টিকিট পেয়েছেন, আবার কেউ কেবল প্রচারেই সীমাবদ্ধ। নন্দিনীর মতো একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার যখন বিষয়টিকে স্রেফ ‘ব্যবসা’ হিসেবে তুলে ধরছেন, তখন অন্যান্য তারকাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এখন রাজনীতিরও বড় অস্ত্র। তবে এই ধরণের লেনদেনের স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের নজরদারির মধ্যে এই খরচগুলো পড়ছে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

বর্তমানে নিজের অনলাইন ব্যবসা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশন নিয়ে ব্যস্ত নন্দিনী। তবে তাঁর এই ‘বিস্ফোরক’ স্বীকারোক্তি যে রাজনীতির অন্দরমহলের অনেক গোপন সমীকরণ সামনে এনে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দিনশেষে কি তবে রাজনীতিও এখন স্রেফ ‘ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট’? উত্তর খুঁজছে সাধারণ মানুষ।