পিঠের চোটে নেই হার্দিক, মাঠেই নামলেন না বুমরাহ! রোহিত-ঝড়ে লখনউয়ের পাহাড় ভাঙল মুম্বই

চোটের কারণে গত ৫টি ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন। চলছিল কঠোর অনুশীলন, কিন্তু প্রশ্ন ছিল—তিনি কি পারবেন পুরনো ছন্দে ফিরতে? গতকাল লখনউ সুপারজায়ান্টসের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেই সব জল্পনার অবসান ঘটালেন রোহিত শর্মা। বুঝিয়ে দিলেন, কেন ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে ভালোবেসে ‘হিটম্যান’ ডাকে। রোহিত-রিকলটন জুটির দাপটে ২২৯ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যও কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।

পুরান-মার্শদের ব্যাটে রান পাহাড়
টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুম্বইয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। লখনউয়ের হয়ে শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিলেন মিচেল মার্শ (৪৪)। তবে গ্যালারিতে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। মাত্র ২১ বলে ৬৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ঋষভ পন্থ ১০ বলে ১৫ রান করে ফিরলেও আইডেন মারক্র্যাম (৩১) এবং হিম্মত সিংয়ের (৪০) ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ২২৮ রান তোলে লখনউ। মুম্বইয়ের হয়ে কর্বিন বশ ২ উইকেট নিলেও বুমরাহ ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়েও কোনো উইকেট পাননি তিনি।

হিটম্যানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
২২৯ রান তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়েই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় মুম্বই। ৪৪ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন রোহিত শর্মা, যার মধ্যে ছিল ৬টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন রায়ান রিকলটন। মাত্র ৩২ বলে ৮৩ রান করে লখনউ বোলারদের নাস্তানাবুদ করেন তিনি। ১১ ওভারে যখন প্রথম উইকেট পড়ে, মুম্বইয়ের স্কোর তখন ১৪৩। ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব (১২) ব্যর্থ হলেও ৮ বল বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে পল্টনরা।

মুম্বইয়ের প্লে-অফ অঙ্ক ও দুশ্চিন্তা
জিতলেও মুম্বই শিবিরে অস্বস্তি কাটছে না। পিঠের চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলেননি নিয়মিত অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। অন্যদিকে, ফর্মে থাকা বুমরাহ এই ম্যাচে ৩টি নো বল করেছেন, যা নিয়ে চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্ট। ১০ ম্যাচে ৩টি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে মুম্বই। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে আগামি ৪টি ম্যাচে শুধু জিতলেই হবে না, বরং বড় ব্যবধানে জিততে হবে এবং তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর পয়েন্ট নষ্টের দিকে। অন্য দিকে, টানা ৫ হার খেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত বিদায় নিল লখনউ।