নবান্ন অতীত, এবার মহাকরণ! ক্ষমতায় ফিরেই রাইটার্স বিল্ডিং নিয়ে মেগা প্ল্যান বিজেপির, মুখ্যমন্ত্রী কে?

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা। নবান্নের একাধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এবার লালবাড়িতে অর্থাৎ ঐতিহাসিক মহাকরণেই ফিরতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু। বিধানসভা নির্বাচনে দুই শতাধিক আসন নিয়ে বিজেপির বিপুল জয়ের পরদিনই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এক অস্থির ও কৌতূহলী পরিস্থিতি। একদিকে যখন নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, অন্যদিকে তখন রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণকে ফের সচল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে পিডব্লিউডি (PWD)।

ফের সচল হচ্ছে মহাকরণ: শুরু তোড়জোড়
সূত্রের খবর, বিজেপির বিপুল জয়ের পর এবার সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন থেকে সরিয়ে আবার ডালহৌসির মহাকরণে নিয়ে আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পিডব্লিউডি-র ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্তারা ইতিমধ্যেই মহাকরণ পরিদর্শন করেছেন। কোন ব্লক থেকে কাজ শুরু করা যায়, নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা কোথায় বসবেন—তা নিয়ে একটি বিকল্প ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। আজই মহাকরণের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বড় দল সেখানে পৌঁছানোর কথা।

নবান্নে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ফাইল রক্ষায় কড়া পাহারা
সরকার বদলের সন্ধিক্ষণে সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি নথিপত্র বা ফাইল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাট বা নষ্ট করা হতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবান্ন-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নবান্নের প্রবেশপথে পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর কড়া নজরদারি চলছে। কোনো কর্মী বা আধিকারিক যাতে অফিসের কোনো নথিপত্র বা ফাইলের কপি নিয়ে বাইরে বেরোতে না পারেন, তার জন্য চলছে কড়া তল্লাশি।

ফাইল পোড়ানো রুখতে মুখ্যসচিবের চরম নির্দেশ
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছেন মুখ্যসচিবও। সমস্ত বিভাগীয় প্রধান ও সচিবদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ—অফিস থেকে যেন কোনোভাবেই ফাইল চুরি না হয়। কোনো সরকারি নথিপত্র যাতে পোড়ানো বা নষ্ট না করা হয়, সেদিকে ব্যক্তিগতভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। মূলত দুর্নীতি বা অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ যাতে গায়েব না হয়ে যায়, সেটাই এখন বিদায়ী প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

জল্পনায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী: তুরুপের তাস কি কোনো ‘অচেনা’ মুখ?
বিজেপির এই মহাবিজয়ের কান্ডারি হিসেবে উঠে আসছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। দুটি কেন্দ্রে জয়ী হয়ে তিনি নিজের দাপট প্রমাণ করেছেন। বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দল লড়াই করলেও, বিজেপির অন্দরে বড় জল্পনা চলছে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে। উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশের মতো বাংলাতেও কি কোনো ‘অচেনা’ মুখকে মুখ্যমন্ত্রী করে চমকে দেবে দিল্লি? নাকি অভিজ্ঞ শুভেন্দু বা শমীকবাবুর উপরেই ভরসা রাখবে দল?

এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। খুব শীঘ্রই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবে গেরুয়া শিবির। আর তার আগেই রাইটার্স বিল্ডিং-এর ঝাড়পোঁছ আর নবান্নের ফাইল পাহারা—এই দুই চিত্রই বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাংলায় রাজত্বের আমূল বদল ঘটে গিয়েছে।