লটারি কিং-এর ‘জ্যাকপট’! তিন রাজ্যে তিন আলাদা দল, একই পরিবারের হাতে দুনিয়ার ক্ষমতা

লটারির ব্যবসায় ভাগ্য নির্ধারণ করেন তিনি। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নিজের পরিবারের ভাগ্য যেভাবে লিখে দিলেন ‘লটারি কিং’ সান্তিয়াগো মার্টিন, তা দেখে রীতিমতো তাজ্জব রাজনৈতিক মহল। তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনে একই পরিবারের তিন সদস্য তিন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। আদর্শ আলাদা হলেও সাফল্যের রঙ সবারই এক—বিজয়।
ডিএমকে-র ঘাঁটিতে লটারি রানির থাবা
নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে ডিএমকে (DMK) দলকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়ে আগেই চর্চায় ছিলেন সান্তিয়াগো মার্টিন। তবে তাঁর স্ত্রী লিমা রোজ মার্টিন ভোটযুদ্ধে নেমেছিলেন প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র (AIADMK) টিকিটে। ডিএমকে-র দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত লালগুডি আসন থেকে লড়ে লিমা জয়ী হয়েছেন। তিনি ২,৭৩৯ ভোটে পরাজিত করেছেন টিভিকে প্রার্থীকে। উল্লেখ্য, ২০০৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই আসনটি টানা ডিএমকে-র দখলে ছিল। লিমা মার্টিন ১,০৪১ কোটি টাকার সম্পদ ঘোষণা করে এবারের নির্বাচনে তামিলনাড়ুর সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হিসেবেও রেকর্ড গড়েছেন।
পড়শি রাজ্যে ছেলের জয়গান
অন্যদিকে, মার্টিনের ছেলে জোস চার্লস মার্টিন পুদুচেরির কামরাজ নগর আসন থেকে লড়েন তাঁর নিজস্ব দল ‘লাচিয়া জননায়ক কাচ্চি’-র হয়ে। এনডিএ (NDA) জোটের শরিক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী পিকে দেবদোসকে ১০,২০৫ ভোটে পরাজিত করেছেন। ৫৯৭ কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে জোস চার্লস ছিলেন পুদুচেরির ধনীতম প্রার্থী।
বিজয়রথ থামেনি জামাতারও
মার্টিন পরিবারের এই বিজয়রথ পূর্ণ হয়েছে জামাতা আধব অর্জুনের হাত ধরে। তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম (TVK) দলের হয়ে ভিলিভাক্কাম আসন থেকে লড়াই করেছিলেন তিনি। ডিএমকে-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে তিনি কার্তিক মোহনকে ১৭,৩০২ ভোটে পরাজিত করেন। আধবের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৪৪২ কোটি টাকা।
রাজনীতির নতুন সমীকরণ?
একই পরিবারের সদস্যরা শাসক, বিরোধী এবং আঞ্চলিক দলের হয়ে লড়াই করে জয়ী হওয়ায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একে ‘ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা’ ও ‘রাজনৈতিক কৌশলের’ মিশেল হিসেবে দেখছেন। লটারি ব্যবসার আড়ালে থাকা বিপুল প্রভাব যে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন শক্তির ভরকেন্দ্র তৈরি করেছে, তা এই নির্বাচনী ফলাফল থেকে পরিষ্কার।
ভিন্ন মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও জয়ের এই ‘হ্যাট্রিক’ সান্তিয়াগো মার্টিনের পরিবারকে ২০২৬ নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। এখন দেখার, আলাদা আলাদা দলের হয়ে এই তিন বিধায়ক আগামী দিনে বিধানসভায় জনস্বার্থে কী ভূমিকা পালন করেন।