নিজের আড়াই বছরের সন্তানকে ৫ লাখে বিক্রি করলেন মা! বেঙ্গালুরুর ঘটনায় স্তম্ভিত শহর

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কি নৈতিকতা এতটা নিচে নামতে পারে? বেঙ্গালুরুর বিবেকানগর থানা এলাকা থেকে উঠে আসা এক অভিযোগ অন্তত সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিবাদ এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজের আড়াই বছরের সন্তানকে ৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

পারিবারিক বিবাদ ও ঘর ছাড়া
পুলিশ সূত্রের খবর, রবি বাবু এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ছিল। ক্রমাগত ঝগড়া ও অশান্তির জেরে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী সম্প্রতি তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। রবি বাবু জানিয়েছেন, তাঁদের দীর্ঘ ১৬ বছরের সংসারে ইদানীং তিক্ততা চরমে উঠেছিল।

৫ লক্ষ টাকায় সন্তান বিক্রির অভিযোগ
যুবক রবি বাবুর অভিযোগ অত্যন্ত বিস্ফোরক। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী তিন সন্তানকে নিয়ে শহরের ম্যাজেস্টিক এলাকায় যান। সেখান থেকে বড় দুই সন্তান কোনোভাবে বাড়িতে ফিরে এলেও নিখোঁজ রয়ে যায় আড়াই বছরের ছোট ছেলেটি। রবির দাবি, তাঁর স্ত্রী স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় পড়ে মাত্র ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিজের সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, এই ষড়যন্ত্রে স্ত্রীর বাবা-মা অর্থাৎ রবির শ্বশুর-শাশুড়িও যুক্ত আছেন বলে তাঁর অভিযোগ। রবি বাবুর দাবি, বাকি দুই সন্তান যখন তাদের মাকে ফিরিয়ে আনতে দিদিমার বাড়িতে গিয়েছিল, তখন তাদের সেখান থেকে বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তদন্তে পুলিশের ভূমিকা
যদিও এই ঘটনায় বিবেকানগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তবে রবি বাবুর দাবি—প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গড়িমসি করেছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ শুরুতে বিষয়টিকে পারিবারিক সমস্যা বলে গুরুত্ব দিতে চায়নি।

বর্তমানে পুলিশ এই স্পর্শকাতর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। শিশুটি সত্যিই নিখোঁজ নাকি তাকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পাচার বা বিক্রি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা সবকটি দিক খতিয়ে দেখছি। খুব দ্রুত শিশুটির সন্ধান পাওয়া এবং সত্য উদঘাটন করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

সন্তান বিক্রির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা যে আধুনিক সমাজের অন্ধকার দিকটি আরও একবার সামনে এনে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। আপাতত পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।