ভবানীপুরেও মুখ থুবড়ে পড়ল ঘাসফুল! নিজের গড়েই শুভেন্দুর কাছে ধরাশায়ী মমতা, ১৫ হাজার ভোটে জিতে ইতিহাস মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের!

নন্দীগ্রামের সেই হাড়হিম করা লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটল খোদ খাস কলকাতায়। নিজের ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরেই ধরাশায়ী হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০ রাউন্ডের দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধের শেষে ১৫,১১৩ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের এই জয় মমতার দীর্ঘ সংসদীয় কেরিয়ারে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এক নজরে ভবানীপুরের স্কোরকার্ড:

বিজয়ী: শুভেন্দু অধিকারী (বিজেপি) – ৭৩,৪৬৩ ভোট।

পরাজিত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল) – ৫৮,৩৫০ ভোট।

জয়ের ব্যবধান: ১৫,১১৩ ভোট।

হ্যাটট্রিক হারের স্বাদ মমতার
সংসদীয় রাজনীতিতে এই নিয়ে তৃতীয়বার পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে হলো তৃণমূল নেত্রীকে। এর আগে ১৯৮৯ সালে যাদবপুরে মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে প্রথম হেরেছিলেন তিনি। এরপর ২০২১-এ নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬-এর এই নির্বাচনে ফের সেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছেই পরাস্ত হলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর দ্বিতীয় হার, যা তাঁকে বিরোধী দলনেত্রীর তকমা পাওয়ার দৌড় থেকেও ছিটকে দিল।

গণনাকেন্দ্রে ধুন্ধুমার: বিস্ফোরক মমতা
ফলাফল স্পষ্ট হতেই গণনাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপি কমিশন’ বলে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, “কমপক্ষে ১০০টি আসন লুট করা হয়েছে। এটি পুরোপুরি অনৈতিক জয়।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও অভিযোগ করেন যে সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাকে লাথি মারা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে।” তবে হারের পরেও দমে না গিয়ে তিনি হুঙ্কার দেন, “উই উইল বাউন্স ব্যাক” (আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব)।

পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির
মমতার এই বিস্ফোরক অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা জানানো হয়েছে, হারের নিশ্চিত জেনে এখন বাহানা খুঁজছেন তৃণমূল নেত্রী। বাংলার মানুষ দুর্নীতি আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, তাই এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

শুভেন্দুর এই জয় একদিকে যেমন বিজেপির আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে নিয়ে গেল, অন্যদিকে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল। এখন দেখার, এই বিপর্যয়ের পর তৃণমূল সুপ্রিমো কোন পথে হাঁটেন।