মমতাই কি দুদিনের ‘কেয়ারটেকার’? ২৫ বৈশাখ শপথ নিতে গেরুয়া শিবিরে কাউন্টডাউন শুরু।

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরকার গঠন নিয়ে পারদ চড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে বাঙালি আবেগকে ছুঁতে কবিগুরুর জন্মদিন অর্থাৎ ২৫ বৈশাখকেই সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে বেছে নিতে পারে বিজেপি। আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সাংবিধানিক জটিলতা ও ‘কেয়ারটেকার’ মুখ্যমন্ত্রী
বিজেপির এই পরিকল্পনায় কিছুটা হলেও আইনি ও সাংবিধানিক কাঁটা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, জয়ী প্রার্থীদের তালিকা সম্বলিত গ্যাজেট নোটিফিকেশন নিয়ে আগামী ৬ মে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের কাছে যাবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়।

যদি ৬ মে-র পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন, তবে ৯ মে শপথ গ্রহণের আগে পর্যন্ত দুদিন প্রশাসনিক প্রধানের পদটি শূন্য থাকবে। এই শূন্যতা এড়াতে এবং সাংবিধানিক সংকট রুখতে রাজ্যপাল একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিতে পারেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ‘কেয়ারটেকার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারেন রাজভবন। মূলত রবীন্দ্রজয়ন্তীতে শপথ অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতেই এই পথ বেছে নেওয়া হতে পারে।

কে হচ্ছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী?
এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে বসছেন রাইটার্সের শীর্ষ আসনে? বাংলার মসনদে বসার দৌড়ে একাধিক নাম ঘোরাফেরা করলেও এখনই চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়নি বিজেপি নেতৃত্ব। এই হাইভোল্টেজ জট কাটাতে আজই কলকাতায় পা রাখছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজনাথ সিংকে। তাঁর সঙ্গে কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। রাজনাথ সিং নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে পরিষদীয় দলের বৈঠকে বসবেন। সেই বৈঠকেই ভোটাভুটি বা আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই ঠিক হবে, আগামী পাঁচ বছর কার হাত ধরে এগোবে পশ্চিমবঙ্গ।

সব মিলিয়ে ২৫ বৈশাখকে কেন্দ্র করে বঙ্গে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে কবিপ্রণাম, অন্যদিকে নতুন সরকারের রাজ্যাভিষেক— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ৯ মে দিনটি বাংলার ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকতে পারে।