‘বিজেপি ১০০ আসন চুরি করেছে!’ মমতার বিস্ফোরক অভিযোগে সিলমোহর রাহুলের, দিল্লিতে কি বড় কোনো ‘খেলা’ হবে?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে এবার জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূলের পরাজয় এবং বিজেপির ২০৬টি আসন দখলকে সহজভাবে নিতে পারছেন না বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতারা। গতকালই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি অন্তত ১০০টি আসন ‘চুরি’ করেছে। এবার সেই একই সুর শোনা গেল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর গলায়।
মমতা-রাহুল ফোনালাপ ও দিল্লির তৎপরতা
সূত্রের খবর, বাংলার ফলাফল স্পষ্ট হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন রাহুল গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসন চুরি’র অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন তিনি। কেবল মমতা নন, রাহুল গান্ধী ফোনে কথা বলেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের সঙ্গেও। জানা গিয়েছে, ভোট লুঠের এই অভিযোগকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যেতে এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে খুব শীঘ্রই বিরোধী দলগুলি একজোট হতে চলেছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলেও খবর।
ইন্ডিয়া জোটের জরুরি বৈঠক
আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে বসতে চলেছে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাই-প্রোফাইল বৈঠক। সূত্রের খবর, এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডাই হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যে বিজেপির ‘ভোট চুরি’র কৌশল এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর ভোট পর্যালোচনা করে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের নীল নকশা তৈরি করতে পারে বিরোধীরা।
কালীঘাটের রণংদেহি মেজাজ
উল্লেখ্য, গতকাল সন্ধেয় গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, “বিজেপি ভোট লুঠ করেছে। আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং জোর করে হারানো হয়েছে। কমিশনের সাহায্যে ১০০টা আসন লুঠ করেছে বিজেপি।” একইসঙ্গে তিনি হুঙ্কার দিয়ে জানান, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়, তিনি আবারও ফিরে আসবেন।
কে হচ্ছেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিকে বিরোধী শিবির যখন ভোট চুরির অভিযোগে সরব, তখন বিজেপি শিবির ব্যস্ত সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে। পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করতে আজই রাজ্যে পা রাখছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ কলকাতায় বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকেই সিলমোহর পড়তে পারে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামে। আগামী ৯ মে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছে।
এখন দেখার, বিরোধী জোটের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নতুন সরকারের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়, নাকি ৯ মে-ই বাংলায় শুরু হবে গেরুয়া শাসনের নতুন অধ্যায়।