‘এবার প্যান্ট খুলে পালাবে বিজেপি!’ গণনার ২৪ ঘণ্টা আগেই তৃণমূল সাংসদের বিস্ফোরক পোস্টে তোলপাড় কোচবিহার

ভোটের ফল বেরোতে এখনও বাকি কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু তার আগেই কোচবিহারের রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া। শনিবার গভীর রাতে তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে সাংসদ যা লিখেছেন, তাকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’ বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির।

ঠিক কী লিখেছেন সাংসদ?

শনিবার গভীর রাতে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে জগদীশ বর্মা বসুনিয়া লেখেন, “২০২১-এ বিজেপির কাউন্টিং এজেন্ট গেঞ্জি খুলে পালিয়েছিল, এবার তাদের প্যান্ট খুলে পালাতে হবে!” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের অভিযোগ, গণনার দিন এজেন্টদের ভয় দেখাতেই এই ধরনের কুরুচিকর ও হুমকিমূলক পোস্ট করেছেন তিনি।

‘ভয়ের সংস্কৃতি’, পালটা আক্রমণ বিজেপির

সাংসদের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রথীন্দ্র বোস। তিনি বলেন, “এটাই তৃণমূলের আসল সংস্কৃতি। হারের ভয়েই ওরা এখন এমন প্রলাপ বকছে। গত ১৫ বছর ধরে আমাদের কর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে, কিন্তু আমরা কখনও প্রতিশোধের কথা বলিনি।”

বিতর্ক ও জগদীশ বসুনিয়া

সিতাইয়ের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত জগদীশ বর্মা বসুনিয়া বরাবরই ঠোঁটকাটা। স্থানীয় মহলে গুঞ্জন, তাঁর এলাকায় ‘বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায়’। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে হারের পর তাঁর বাড়িতে হামলা এবং দীর্ঘ সময় ঘরছাড়া থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পরে ২০২২-এ সাংসদ হওয়ার পর তাঁর প্রভাব আরও বাড়ে। কয়েকদিন আগেই তিনি লিখেছিলেন, “৪ মে ডিজে আর ঢাকের তালে সবুজ আবির খেলবে তৃণমূল।” কিন্তু এবারের ‘প্যান্ট খুলে পালানো’র মন্তব্য সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গিয়েছে।

উত্তপ্ত কোচবিহার: কমিশনের নজরে কি এই পোস্ট?

কোচবিহারের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই রক্তক্ষয়ী ও সংবেদনশীল। এবারের নির্বাচনেও সেখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। গণনার ঠিক আগের দিন একজন জনপ্রতিনিধির এমন মন্তব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কিত পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।

রাজ্য রাজনীতির নজর এখন উত্তরবঙ্গের এই জেলাটির দিকে। ব্যালট বাক্স খুললে কার জয়জয়কার হবে, তা জানা যাবে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে তার আগেই তৃণমূল সাংসদের এই ‘হুঁশিয়ারি’ পরিস্থিতিকে যে আরও উত্তপ্ত করে তুলল, তা নিশ্চিত।