মাঝরাতে স্ট্রং রুমে রহস্যময় সাতটি ট্রাঙ্ক! ইভিএম খোলার আগেই কি বড় কোনো খেলা? তুঙ্গে বিতর্ক

৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ ফলাফল। কিন্তু চূড়ান্ত মুহূর্তের সেই ইভিএম খোলার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল শহর কলকাতার রাজনীতির ময়দান। এবার অভিযোগের তির সরাসরি উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-র (DEO) দিকে। বিধি ভেঙে পোস্টাল ব্যালট বাছাই করার গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মাঝরাতের ‘অপারেশন’ নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার সূত্রপাত উত্তর কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে ঘিরে। বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যখন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছিল না, তখন অন্তত সাতটি ট্রাঙ্কে করে পোস্টাল ব্যালট গণনাকেন্দ্রে ঢোকানো হয়েছে। শশী পাঁজার দাবি, “গতকাল রাত দেড়টা পর্যন্ত আমাদের লোকেরা অপেক্ষা করেছে, তখন ব্যালট আসেনি। অথচ ভোর ৪টে নাগাদ গোপনে ট্রাঙ্কগুলো ঢোকানো হলো।”

তৃণমূলের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, যে ঘরে ওই ব্যালটগুলো রাখা হয়েছে, সেখানে কোনো সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি নেই। এমনকি পরে সিসিটিভি লাগানোর নাম করে আবারও ঘর খোলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাসকদলের প্রার্থীরা।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে ‘অপমানিত’ শশী পাঁজা স্ট্রং রুমের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বাধার সম্মুখীন হতে হয় শশী পাঁজাকে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা সিআরপিএফ-এর কাছে প্রতিনিয়ত অপমানিত হচ্ছি। বৈধ ব্যাচ থাকা সত্ত্বেও আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা কার্যত বর্বর আচরণ।” এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থানে বসেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। ঠিক একই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছে যান।

সিসিটিভি বিভ্রাট ও বারাসতের পরিস্থিতি শুধু কলকাতা নয়, বারাসতেও গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ডিসপ্লে হঠাৎ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শশী পাঁজার প্রশ্ন, “বুথে বুথে যদি নিখুঁত ওয়েবকাস্টিং হতে পারে, তবে গণনাকেন্দ্রে কেন সিসিটিভি অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা বন্ধ হচ্ছে?” যে কয়েক ঘণ্টা ফুটেজ দেখা যায়নি, তার ভিডিও রেকর্ডিং দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কমিশনের অবস্থান নির্বাচন কমিশন সূত্রে অবশ্য জানানো হয়েছে, তৃণমূলের তোলা এই অভিযোগের আপাতত কোনো শক্তিশালী সারবত্তা পাওয়া যায়নি। কমিশনের দাবি, নিয়ম মেনেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

গণনা শুরুর আগেই এই ‘পোস্টাল ব্যালট যুদ্ধ’ ৪ মে-র লড়াইকে আরও অনিশ্চিত ও স্নায়ুচাপের করে তুলল। সাধারণ মানুষের রায় ইভিএম-এ বন্দি থাকলেও, সেই রায় সুরক্ষিত রাখা নিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ছে না ঘাসফুল শিবির। ৪ মে-র প্রতিটি মুহূর্তের টাটকা আপডেটের জন্য চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।