ভোটের সকালেই তপ্ত মগরাহাট! তৃণমূল-বিজেপি মুখোমুখি সংঘর্ষের উপক্রম, পরিস্থিতি সামাল দিল বাহিনী

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমে পুনর্নির্বাচনের দিনে এড়ানো গেল না উত্তেজনার আঁচ। শনিবার ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন চলাকালীন এয়ারপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ ও স্লোগান-পালটা স্লোগানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সকাল থেকেই মগরাহাট পশ্চিমের বিভিন্ন বুথে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিযোগ, এয়ারপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী-সমর্থক জমায়েত করেছিলেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী গৌরসুন্দর ঘোষ। তাঁকে দেখা মাত্রই তৃণমূল কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রতিবাদে সরব হন বিজেপি কর্মীরাও। মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের বাদানুবাদে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।

তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। দু’পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টা করেন তাঁরা। বাহিনীর কড়া হস্তক্ষেপে বড়সড় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর ওই এলাকায় টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পথে কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না।

রাজনৈতিক চাপানউতোর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির দাবি, ভোটারদের ভয় দেখাতে এবং ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, ঘাসফুল শিবিরের দাবি, বিজেপি প্রার্থী এলাকায় গিয়ে প্ররোচনা দেওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পুনর্নির্বাচনের দিনেও এমন অশান্তির আবহে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে বর্তমানে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা নজর রাখছি প্রতিটি বুথের খবরের দিকে।