ফলতায় ফের ভোট? ৩০টিরও বেশি বুথে পুনর্নির্বাচনের রিপোর্ট জমা পড়ল দিল্লিতে, কাঁপছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা!

৪ মে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষণ। কিন্তু তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে মহাবিস্ফোরণ! ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে কি ফের ভোট হতে চলেছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে ফলতার ৩০টিরও বেশি বুথে পুনর্নির্বাচন বা ‘রি-পোল’ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে।

দিল্লির কোর্টে বল, কী আছে রিপোর্টে? গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন ফলতা বিধানসভার বিভিন্ন বুথে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। ভোটারদের বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকা— সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করেছে সিইও দপ্তর। গতকাল বিকেলেই সেই রিপোর্ট দিল্লি পাঠানো হয়েছে। এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিলমোহর দিলেই ফলতায় ফের ভোটের ডঙ্কা বাজবে।

মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবারে পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন ফলতা নিয়ে জল্পনা চললেও, আজ অর্থাৎ শনিবার নির্ধারিত সূচি মেনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্য দুই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার এবং মগরাহাট পশ্চিমের একাধিক বুথে গত ২৯ তারিখের ভোট বাতিল করে আজ নতুন করে ভোটগ্রহণ করা হয়।

  • মগরাহাট পশ্চিম: ১১টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে ৫৬.৩৩% ভোট পড়েছে।

  • ডায়মন্ড হারবার: ৪টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে ৫৪.৯% মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

নিরাপত্তার বজ্রমুষ্টি ও ডাবল কালির দাগ আজকের পুনর্নির্বাচনে ছিল নজিরবিহীন কড়াকড়ি। বুথে প্রবেশের আগে ভোটারদের আইডি কার্ড এবং মোবাইল ফোন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেক করা হয়েছে। সবচেয়ে মজার দৃশ্য ছিল ভোটারদের আঙুলে। গত ২৯ তারিখের কালির দাগের ওপর আজ নতুন করে কালির প্রলেপ নিয়ে কেন্দ্র থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মগরাহাটের ভোটারদের।

ফলতার ভবিষ্যৎ কী? মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ফলতা নিয়ে সমস্ত তথ্য কমিশনের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, গণনার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ আগামীকাল রবিবারের মধ্যেও পুনর্নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। যদি ৩০টির বেশি বুথে ফের ভোট হয়, তবে তা পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।