সিএ না কি অন্য কিছু? উচ্চমাধ্যমিকের পর কমার্স নিয়ে পড়লে লাখ টাকার ক্যারিয়ার গড়বেন কীভাবে? জেনে নিন আসল মন্ত্র

দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরোনোর পর বাণিজ্য বা কমার্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের সামনে এখন হাজারো পথের হাতছানি। কিন্তু এই ভিড়ের মাঝে সঠিক পেশা বেছে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় দেখা যায়, স্রেফ জনপ্রিয়তার লোভে পড়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (সিএ)-র মতো গতানুগতিক কোর্সের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে পড়ুয়ারা। বর্তমানের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কমার্সের পড়ুয়ারা কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবেন, তা নিয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত ক্যারিয়ার কাউন্সিলর পারভীন মালহোত্রা।

কলেজ না কি কোর্স—কোনটা আগে?
ভর্তির মরশুমে বেশিরভাগ পড়ুয়াই বড় নামের কলেজের পিছনে ছোটেন। কিন্তু ‘ক্যারিয়ার গাইডেন্স ইন্ডিয়া’-র প্রতিষ্ঠাতা পারভীন মালহোত্রার মতে, পছন্দের কলেজের চেয়ে পছন্দের কোর্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক হওয়া এখনকার দিনে একটি নূন্যতম যোগ্যতা মাত্র। তাই স্রেফ একটা ডিগ্রির জন্য না পড়ে, এই তিন-চার বছর সময়কে নিজের দক্ষতা (Skill) বাড়ানোর কাজে লাগানো উচিত।

আগ্রহ ও ব্যক্তিত্বই হোক সাফল্যের মাপকাঠি:
আজকের কর্মজগৎ আর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার ধরাবাঁধা ছকে আটকে নেই। তাই এমন পেশা বেছে নেওয়া জরুরি যা আপনি মন থেকে উপভোগ করেন। পারভীন মালহোত্রার পরামর্শ হলো, হুজুগে গা না ভাসিয়ে নিজের আগ্রহ এবং ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে বিষয় পছন্দ করুন। বিশেষ করে বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে স্বল্পমেয়াদী প্রফেশনাল বা স্কিল-বেসড কোর্স করা অত্যন্ত লাভজনক। এতে খুব কম সময়েই বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রটি আপনার জন্য আদৌ উপযুক্ত কি না।

ফলাফলের পর অনিশ্চয়তা? ভয় নেই!
যাঁদের রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে অথচ এখনও ঠিক করে উঠতে পারেননি কী করবেন, তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বি.কম-এর মতো একটি নিরাপদ স্নাতক কোর্সে ভর্তি হয়ে পাশাপাশি নিজের পছন্দের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ থাকে। এছাড়া বর্তমানে Coursera বা LinkedIn Learning-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের দ্বারা পরিচালিত বহু স্বল্পমেয়াদী অনলাইন কোর্স (MOOCs) রয়েছে, যা খুব অল্প খরচেই আপনার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে পারে।

মনে রাখুন: ডিগ্রি কেবল আপনাকে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে, কিন্তু চাকরি ধরে রাখতে এবং জীবনে সফল হতে প্রয়োজন সঠিক দক্ষতা ও নিজের কাজকে ভালোবাসার ক্ষমতা। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন এবং আগামীর ডিজিটাল বিশ্বের জন্য নিজেকে তৈরি করুন।