মণিপুরে বড় অ্যাকশন! গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ২৩টি বাঙ্কার, উদ্ধার আইইডি-র পাহাড়—উত্তেজনা তুঙ্গে

দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘর্ষের আঁচ এখনও নেভেনি উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুরে। এরই মধ্যে বড়সড় সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দিল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার (২ মে) প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উখরুল ও কাংপোকপি জেলার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৩টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।
বাঙ্কার ধ্বংস ও বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে মণিপুরের মংকোট চেপু, শংফেল, সিরারাখং-এর মতো সংবেদনশীল পাহাড়ি গ্রামগুলোতে লাগাতার তল্লাশি চলে। পাহাড়ের চূড়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তৈরি করা এই বাঙ্কারগুলো মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি একে অপরের ওপর হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করত। বাঙ্কার ধ্বংসের পাশাপাশি সেখান থেকে ১২-বোরের পাম্প-অ্যাকশন শটগান, প্রচুর কার্তুজ এবং গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
আইইডি-র বিস্ফোরণ থেকে বাঁচল মোরেহ
তেংনৌপাল জেলার মোরেহ এলাকায় চালানো অন্য একটি অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে সেনা। টি. বংমল গ্রাম থেকে ১৮টি শক্তিশালী হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস (IED) উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ম্যাগাজিনসহ ৯ মিমি পিস্তল এবং রাইফেলও পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এই আইইডি-গুলো বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। বিপদ এড়াতে ঘটনাস্থলেই সেগুলোকে সতর্কতার সাথে ধ্বংস করা হয়।
সহিংসতার বলি ৭, থমথমে পরিস্থিতি
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার অশান্তিতে কুকি এবং টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। জানা গেছে, সাম্প্রতিক গোলমালে উখরুল জেলায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩০টিরও বেশি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উখরুল, কামজং এবং কাংপোকপি জেলাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি জটিল। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
শান্তি ফেরাতে মরিয়া প্রশাসন
মণিপুর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্র ও পরিকাঠামো নির্মূল করতে কোনো আপস করা হবে না। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ড্রোন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।