সিঙ্গুরে হাড়হিম করা কাণ্ড! ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে গাড়ির ভেতর জীবন্ত দগ্ধ চালক, দাউদাউ আগুনে ছাই সব

আবারও রক্ত ঝরল সিঙ্গুরে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সেই চেনা মরণফাঁদেই প্রাণ হারালেন এক গাড়ি চালক। শনিবার ভোরে সিঙ্গুরের গোপালনগর এলাকায় ডানকুনিমুখী লেনে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা। চোখের পলকে একটি চারচাকা গাড়ি আগুনের গোলায় পরিণত হয়, আর সেই আগুনেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চালকের।

যেভাবে শুরু এই ধ্বংসলীলা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার ভোরে। ডানকুনিমুখী লেনে প্রথমে দুটি দ্রুতগামী ডাম্পারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হলে জাতীয় সড়কে যান চলাচলের গতি কিছুটা কমে যায়। সেই সময় পিছন দিক থেকে আসা একটি বালি বোঝাই ট্রাক আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা মারে একটি চলন্ত গাড়ির পিছনে।

ধাক্কা এতটাই জোরালো ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। জাতীয় সড়কের উপরেই তখন আগুনের লেলিহান শিখা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও শেষরক্ষা হয়নি। গাড়ির ভেতরে আটকে পড়া চালক বেরোনোর সুযোগটুকুও পাননি। ভেতরেই পুড়ে ছাই হয়ে যান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
ভয়াবহ এই ঘটনার সাক্ষী সুন্দর মান্না জানান, “রাতের অন্ধকারে একটার পর একটা গাড়ির ধাক্কা লাগে। হঠাৎই একটি গাড়ি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। আমরা দেখলাম গাড়ির ভেতর একজন লোক আটকে আছে, কিন্তু আগুনের তাপে কাছে যাওয়া যাচ্ছিল না। চোখের সামনেই মানুষটা পুড়ে মারা গেল।”

অভিশপ্ত ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক?
উল্লেখ্য, ঠিক একদিন আগেই এই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের রতনপুর এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গয়া থেকে পিণ্ডদান সেরে ফেরার পথে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারের পিছনে ধাক্কা মেরেছিল একটি পর্যটক বোঝাই গাড়ি। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ফের প্রাণহানি ঘটল সিঙ্গুরে।

বর্তমানে পুলিশ মৃত চালকের পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ডাম্পার দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিঙ্গুর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পরপর এই দুর্ঘটনায় জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।