“বুথ থেকে সোজা স্ট্রংরুম”-ভোটের পর EVM রাখার নিয়ম কী? জেনেনিন আসল সত্যি

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু— ইভিএম স্ট্রংরুম। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর রাতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছেছিলেন। যদিও কমিশনের দাবি, যাবতীয় প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভোটের পর থেকে গণনা পর্যন্ত এই ইভিএম মেশিনগুলো আসলে কীভাবে রাখা হয়?
কী এই স্ট্রংরুম? ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সিল করা ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিনগুলো যে সুরক্ষিত ঘরে রাখা হয়, তাকেই বলা হয় স্ট্রংরুম। সাধারণত বড় কোনও হলঘর বা সুরক্ষিত ভবনকে এর জন্য বেছে নেওয়া হয়। একবার মেশিন ঢোকানোর পর সেখানে তালা মেরে কমিশনের আধিকারিক এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দরজায় সিল করে দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার তিন স্তর: নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিদ্রহীন রাখতে তিন স্তরের বলয় তৈরি করা হয়:
-
প্রথম স্তর (ভিতরের অংশ): যেখানে ইভিএম রাখা থাকে, সেখানে চব্বিশ ঘণ্টা পাহারায় থাকেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানরা। পুরো এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকে।
-
দ্বিতীয় স্তর: এখানে আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের থাকার ব্যবস্থা থাকে। তাঁরা বড় স্ক্রিনে সিসিটিভি ফুটেজ সরাসরি দেখার সুযোগ পান।
-
তৃতীয় স্তর (বাইরের অংশ): এই বলয়ে মোতায়েন থাকে রাজ্য পুলিশ। অনুমোদিত পরিচয়পত্র এবং কিউআর কোডযুক্ত পাস ছাড়া এখানে কেউ প্রবেশ করতে পারেন না।
তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের ব্যাখ্যা: কুণাল ঘোষসহ তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ ছিল, প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই স্ট্রংরুমের করিডরে মুভমেন্ট হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মূল ইভিএম স্ট্রংরুমগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং সিল করা অবস্থায় রয়েছে। মূলত পোস্টাল ব্যালট এবং ইটিবিপিএস (ETBPS)-এর মাধ্যমে জমা পড়া ব্যালটগুলো পৃথকীকরণের কাজ চলছিল। এই বিষয়ে ইমেলের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের আগেই জানানো হয়েছিল বলে দাবি কমিশনের।
অঘটন ঘটলে কী নিয়ম? যদি বিশেষ কোনও পরিস্থিতিতে (যেমন শর্ট সার্কিট বা অগ্নিকাণ্ড) স্ট্রংরুম খোলার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা একা কমিশন করতে পারে না। সেক্ষেত্রে সমস্ত প্রার্থীর প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। তাঁদের সই এবং ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমেই সেই ঘর খোলা ও পুনরায় সিল করা হয়।
ভোট গণনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত এই টানটান উত্তেজনা বজায় থাকবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে কমিশনের দাবি, ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়ের অবকাশ নেই।