“রাতের অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছি!”-হিমন্তের এক মন্তব্যে তোলপাড় ঢাকা, ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব!

ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হলো অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ‘রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক’ করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য স্বীকারোক্তিকে ‘অবমাননাকর’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ। এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ঠিক কী বলেছিলেন হিমন্ত? সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, অসমে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের আটক করার পর তাদের আইনি অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে গোপনে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অপরাধী হস্তান্তরের চুক্তি থাকলেও, সাধারণ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ এবং তা পুরোপুরি বাংলাদেশের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল।
হিমন্তের কথায়, “যদি আমরা অফিশিয়াল রুট ব্যবহার করি, তবে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তার বদলে আমরা এমন জায়গা বেছে নিই যেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) উপস্থিত নেই এবং সেখান দিয়ে রাতের অন্ধকারে লোকজনকে ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, সরকারিভাবে ১,৪০০ জনের কথা নথিবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এই সংখ্যাটা কয়েক হাজার।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন: অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিমন্তের এই বক্তব্যকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর এবং অপমানজনক মনে করছে ঢাকা। সেই কারণেই ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
উদ্বেগের কারণ: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর সাক্ষাৎকারে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশিকার প্রসঙ্গ টেনে জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা কাউকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করলে তাকে উচ্ছেদের আদেশ দিতে পারেন। তবে সেই উচ্ছেদ কীভাবে হবে, তার নির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায় এই ‘পুশব্যাক’ কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে অসম প্রশাসন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কড়াকড়ির জেরে অনেক বাংলাদেশি এখন নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন।
দিল্লি ও ঢাকার বর্তমান সম্পর্ক: গত অগাস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক এক নজিরবিহীন শীতলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে এস জয়শঙ্কর ও অজিত ডোভালের বৈঠক এবং ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার ঘটনায় সম্পর্কের উন্নতির আশা দেখা দিয়েছিল। হিমন্তের এই মন্তব্য সেই ইতিবাচক আবহে কতটা বড় ধাক্কা দেবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।