“আমেরিকাতে গিয়েই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান”-FIFA-র সঙ্গে পেরে উঠলেন না ট্রাম্প

পশ্চিম এশিয়ার বারুদ-গন্ধী পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে। একদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের চরম সংঘাত, অন্যদিকে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটালেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান শুধু অংশগ্রহণই করবে না, তাদের নির্ধারিত ম্যাচগুলো আমেরিকার মাটিতেই হবে।

ইনফান্তিনোর কড়া বার্তা: সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভারে ফিফার বৈঠকে ইরানের অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, দেশটি হয়তো ফুটবল মহাযজ্ঞ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু সেই জল্পনা উড়িয়ে ইনফান্তিনো বলেন, “শুরুতেই একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই। আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে এবং তাদের ম্যাচগুলো আমেরিকাতেই অনুষ্ঠিত হবে।” ফিফা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপের আগে থেকে নির্ধারিত সূচিতে কোনও রদবদল করা হবে না।

ট্রাম্প বনাম ইরান ফুটবল ফেডারেশন: বিতর্কের সূত্রপাত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প লিখেছিলেন, “ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত নয়।” এই মন্তব্যকে পরোক্ষ হুমকি হিসেবেই দেখছে ফুটবল মহল।

পাল্টা জবাবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, “বিশ্বকাপ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা, কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা ব্যক্তি নয়। ইরান তার যোগ্যতায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। যদি নিরাপত্তা দিতে না পারার কারণে কাউকে বাদ দিতে হয়, তবে আয়োজক দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, অংশগ্রহণকারী দলকে নয়।”

সূচি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ: এশিয়ার অন্যতম সেরা শক্তি হিসেবে ইরান টানা চতুর্থবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের ম্যাচগুলো রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলে। আগামী ৩ জুলাই ডালাসে নকআউট পর্বে আমেরিকা ও ইরানের মুখোমুখি হওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান সরকার তাদের ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ম্যাচগুলো মেক্সিকো বা কানাডায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল, যা ফিফা নাকচ করে দিয়েছে।

পেছনের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা এবং প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ফুটবলারদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন। তবে ফিফার অনড় অবস্থান এবং ইনফান্তিনোর আশ্বাসের পর এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের সবুজ ঘাসে ইরানের ফুটবলাররা বল ছোটান কি না।