“আইফোন প্রেমে মজেছে ভারত!”-মধ্যবিত্তের ওপর ভরসা করে বড় বাজি ধরলেন বিদায়ী সিইও টিম কুক

ভারতের বাজারে ব্যবসার ‘বিপুল সম্ভাবনা’ দেখছে বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্ট অ্যাপল (Apple)। সংস্থার বিদায়ী সিইও টিম কুক জানিয়েছেন, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণিই আগামী দিনে অ্যাপলের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছে। সম্প্রতি একটি ইনভেস্টর কল-এ কুক স্পষ্ট করেছেন যে, স্মার্টফোন বাজারে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং পার্সোনাল কম্পিউটারের বাজারে তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশে অ্যাপলের সামনে এখন আকাশছোঁয়া সুযোগ রয়েছে।
ভারতের বাজার নিয়ে বড় দাবি:
টিম কুকের মতে, ভারতে অ্যাপলের বাজার এখনও তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও নতুন ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়ছে উল্কার গতিতে। আইফোন, ম্যাকবুক কিংবা আইপ্যাড— প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ক্রেতাদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করছেন। যা সংস্থার ‘ইনস্টল বেস’ বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে। কুক বলেন, “ভারতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি এবং ফলও পাচ্ছি আশাব্যঞ্জক। তবে আমাদের মার্কেট শেয়ার এখনও সীমিত, যার অর্থ হলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক জায়গা রয়েছে।”
নেতৃত্বে বড় চমক:
ব্যবসার এই রমরমার মধ্যেই অ্যাপলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে ঐতিহাসিক বদল। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে টিম কুক তাঁর দীর্ঘদিনের সিইও পদ ছেড়ে ‘এগজ়িকিউটিভ চেয়ারম্যান’-এর দায়িত্ব নেবেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন জন টার্নাস (John Ternus), যিনি বর্তমানে সংস্থার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। নতুন উত্তরসূরি টার্নাসকে ‘অসাধারণ দক্ষ ও চিন্তাশীল নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কুক।
কিছুটা উদ্বেগেও কি রয়েছে অ্যাপল?
সব খবর অবশ্য স্বস্তির নয়। কুক স্বীকার করেছেন যে, উন্নত চিপ উৎপাদনের ঘাটতির কারণে গত মার্চ ত্রৈমাসিকে আইফোন এবং ম্যাকের সরবরাহে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এই চাপের রেশ আগামী জুন ত্রৈমাসিকেও বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মেমোরি কম্পোনেন্টের ক্রমবর্ধমান দাম সংস্থার জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সরবরাহ ও কাঁচামালের খরচের চাপ থাকলেও গত ত্রৈমাসিকে অ্যাপল রেকর্ড ৪৯.৩ শতাংশ গ্রস মার্জিন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ভারতে ইতিমধ্যেই ছ’টি রিটেল স্টোর এবং এন্টারপ্রাইজ় সেগমেন্টে নিজেদের আধিপত্য বাড়িয়ে অ্যাপল বুঝিয়ে দিচ্ছে— তাদের পরবর্তী গন্তব্য এখন শুধুই ভারত।