“২কোটি ক্ষতিপূরণ, পেনশন, ৩ গুণ ভাতা”-৮ম বেতন কমিশনে কর্মীদের ১০ দাবি কী কী?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের পকেটে কি এবার বিপুল অর্থের জোয়ার আসতে চলেছে? মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজধানীর অলিন্দে। সম্প্রতি দিল্লিতে অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আয়োজিত তিন দিনের ম্যারাথন বৈঠক শেষ হয়েছে। আর সেই বৈঠকের ভেতর থেকে উঠে আসা তথ্যগুলি যদি সত্যি হয়, তবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকের হাইলাইটস: বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সভাপতিত্বে এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক পুলক ঘোষ ও সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কর্মচারী সংগঠনগুলোর তরফে জোরালো সওয়াল করেন শিবগোপাল মিশ্র। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বর্তমানের ১৮ হাজার টাকার ন্যূনতম মূল বেতনকে বৃদ্ধি করা।

দাবির তালিকায় যা যা রয়েছে:

  • ন্যূনতম বেতন ৬৯ হাজার: কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৯ হাজার টাকা করতে হবে। এর জন্য তারা ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকরের প্রস্তাব দিয়েছেন।

  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বর্তমানে যা আছে, তার বদলে মূল বেতনের ওপর সরাসরি ৬ শতাংশ হারে করার দাবি জানানো হয়েছে।

  • OPS-এর দাবি: আলোচনার টেবিলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পুরনো পেনশন ব্যবস্থা (OPS) ফিরিয়ে আনার দাবি। সেই সঙ্গে গ্র্যাচুইটি ও অবসরকালীন সুবিধার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

  • ভাতা ও পদোন্নতি: বর্তমানের সব ভাতাকে তিন গুণ করার পাশাপাশি কর্মজীবনে অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত পদোন্নতির (Promotion) দাবি রেখেছেন প্রতিনিধিরা।

সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লক্ষ লক্ষ কর্মী: কমিশন আপাতত আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন মহলের পরামর্শ ও সুপারিশ জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কর্মচারী প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই বৈঠক ইতিবাচক হলেও তাঁরা আরও একটি অতিরিক্ত স্মারকলিপি জমা দেবেন।

আপাতত মে মাসের শেষ লগ্নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন কয়েক লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী। অষ্টম বেতন কমিশনের এই সুপারিশ যদি কেন্দ্র মেনে নেয়, তবে তা হবে দেশের বেতন কাঠামোর ইতিহাসে অন্যতম বড় সংস্কার।