“মাছ চোর,মাছ চোর”-গানে উত্তাল ভাঙড়! নওশাদকে নিশানা করে এ কী বললেন শওকত মোল্লা?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লোকসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে রাজনীতির ময়দান এখন সরগরম এক অদ্ভুত প্যারোডি গানে। ‘মাছ চোর, মাছ চোর, শওকত তো মাছ চোর’— এই বিতর্কিত গানটি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা তুঙ্গে। ভাঙড়ের রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া এই গানটি নিয়ে এবার মৌনতা ভাঙলেন খোদ ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা।
শওকতের কড়া প্রতিক্রিয়া: সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই গানটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন শওকত। তিনি বলেন, “নোংরামোরও একটা সীমা থাকা উচিত। যারা এই ধরনের কাজ করেছে, তারা আসলে নিজেদের নিচু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে বিরোধীরা এখন এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে।
তীর কি নওশাদের দিকে? যদিও এই গানটির সৃষ্টিকর্তা কারা, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনও তথ্য মেলেনি, তবুও তৃণমূল শিবিরের স্পষ্ট ইঙ্গিত এটি আইএসএফ-এর (ISF) কাজ। সরাসরি নাম না নিলেও নওশাদ সিদ্দিকিকে নিশানা করে শওকত মোল্লা বলেন, “হতাশা থেকেই বিরোধীরা এই বিশ্রী গান তৈরি করেছে। এর যোগ্য জবাব ৪ মে ফল প্রকাশের দিন মানুষই দিয়ে দেবে।”
উত্তাপ বাড়ছে ভাঙড়ে: অন্যদিকে, এই বিতর্কিত গানটি নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকির অবস্থানও বেশ কৌতূহলজনক। জনসভা থেকে নওশাদ তাঁর কর্মীদের এই গান বাজাতে নিষেধ করলেও, বাস্তবের চিত্রটা ভিন্ন। দেখা যাচ্ছে, নিষেধের পর গানটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তা লাউডস্পিকারে বাজানো হচ্ছে।
নির্বাচনী সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন: ভোটের মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বা কুরুচিপূর্ণ গান কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনও হস্তক্ষেপ না করলেও, ভাঙড়ের অলিতে-গলিতে এখন ‘মাছ চোর’ গানটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের লড়াই কি শেষ পর্যন্ত এই গান আর পালটা গানের যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি উন্নয়নের ইস্যু বড় হয়ে দাঁড়াবে— তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।