হ্যাটট্রিক করে মেসি কাঁদছিলেন, চোখের জল কেন এল ‘ফুটবলের রাজপুত্রে’র চোখে?

বুধবার সকালে বিশ্ব ফুটবলের সাক্ষী থাকল এক অবিশ্বাস্য মুহূর্তের। বিশ্বকাপের গ্রুপ জে-এর ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিধ্বংসী মেজাজে দেখা গেল আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসিকে। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে দুমড়ে-মুচড়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষে মাঠের মাঝেই দেখা গেল অন্য এক মেসিকে—যার চোখে জল, মুখে এক গভীর বিষণ্ণতা।

রেকর্ড ভাঙার আনন্দ নাকি ব্যক্তিগত যন্ত্রণা?
৩৮ বছর বয়সী মেসির এদিন মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়া নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকেই ভেবেছিলেন, ১৬টি গোল করে বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোজের রেকর্ড ছোঁয়া বা ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার আনন্দ থেকেই হয়তো এই আবেগ। কিন্তু ম্যাচ শেষে খোদ মেসি নিজেই খোলাসা করলেন আসল কারণ।

মেসি স্পষ্ট জানান, এই চোখের জলের সাথে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “ফুটবলের জন্য আমার চোখ থেকে জল বেরোয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত কঠিন ও টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। খেলার বাইরে জীবনটা এখন খুব জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।” যদিও এই ‘কঠিন পরিস্থিতি’ ঠিক কী, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন কিংবদন্তি।

সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ব্যক্তিগত কষ্টের দিনে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সতীর্থ এবং সাপোর্ট স্টাফদের পাশে পাওয়ার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন মেসি। তিনি বলেন, “আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার সতীর্থরা সর্বক্ষণ চেষ্টা করে গিয়েছেন যাতে আমি ভালো থাকি। এই টিমে খেলতে পারা এবং বিশ্বকাপ উপভোগ করা আমার কাছে কেকের ওপর চেরি।”

প্রতিপক্ষও মুগ্ধ ‘মেসি ম্যাজিকে’
মেসির এই বিধ্বংসী ফর্মে স্তব্ধ আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসসা মান্ডি। তিনি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন, মেসিকে আটকানোর কোনো উপায় ছিল না। মান্ডির কথায়, “আমাদের প্রতিপক্ষ দলে এমন একজন খেলোয়াড় আছে, যে প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করতে জানে না। ও সম্ভবত সর্বকালের সেরা।” আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের শিষ্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “লিও সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই, ও অনবদ্য। শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না।”

ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকা মেসি প্রমাণ করে দিলেন, বয়সের ভার তাঁর জাদুকরী বাঁ-পায়ের সামনে আজও হার মানতে বাধ্য। তবে মাঠের মাঠের এই রাজকীয় সাফল্যের আড়ালে মেসির ব্যক্তিগত জীবনের কোন মেঘ জমেছে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে বিশ্ব ক্রীড়ামহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *