‘বিদেশি শক্তির কবর হবে জলের গভীরে’, ঐতিহাসিক দিবসে ওয়াশিংটনকে কাঁপিয়ে দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা!

পারস্য উপসাগর দিবসে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি। সরাসরি আমেরিকাকে নিশানা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এই অঞ্চলের ভবিষ্যতে আমেরিকার কোনো স্থান নেই। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা বিদেশি শক্তিদের জন্য পারস্য উপসাগরের ‘জলের গভীর’ ছাড়া আর কোনো জায়গা হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
“আমেরিকাবিহীন নতুন বিশ্বব্যবস্থা”
বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে (IRIB) দেওয়া এক বার্তায় খামেনি বলেন, “ঈশ্বরের কৃপায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে আমেরিকাবিহীন। এখানকার মানুষের সমৃদ্ধির জন্য এই নতুন ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত। তাই বাইরের কোনো শক্তির এখানে নাক গলানো উচিত নয়। খামেনির মতে, ইরানের ‘প্রতিরোধ নীতি’র কারণেই আজ এই অঞ্চলে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা বা ‘নিউ অর্ডার’ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।
৯ কোটি ইরানির ‘মিসাইল’ শপথ
দেশের সামরিক ও বৈজ্ঞানিক শক্তি নিয়ে এদিন দম্ভোক্তি শোনা যায় খামেনির গলায়। তিনি দাবি করেন, ইরান এখন আর কেবল তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়; ন্যানো প্রযুক্তি, বায়ো-টেকনোলজি থেকে শুরু করে পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও বিশ্বকে টক্কর দিচ্ছে।
তাঁর কথায়, “দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ৯ কোটি ইরানি নাগরিক আজ এই প্রযুক্তিগুলোকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে। জল, স্থল এবং আকাশসীমার মতোই তারা দেশের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে রক্ষা করবে।” খামেনি স্পষ্ট করে দেন যে, আমেরিকার রক্তপিপাসু মানসিকতা ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানি জাতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।
কেন ৩০ এপ্রিল ইরানের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতি বছর ৩০ এপ্রিল ইরানে ‘পারস্য উপসাগর দিবস’ পালন করা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ১৬২২ সালের এক ঐতিহাসিক গৌরবগাথা। ওই দিন পারস্যের শাসক প্রথম আব্বাসের নেতৃত্বে হরমুজ দ্বীপ থেকে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক বাহিনীকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। প্রায় এক শতাব্দীর বিদেশি শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল এই জয়।
আজ সেই জয়ের স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে খামেনি যখন আমেরিকাকে ‘জলের গভীরে’ পাঠানোর হুমকি দিচ্ছেন, তখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।