ইরানে বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! এবার খাড়গ দ্বীপ দখলের পথে যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে ঘোষণা করেছেন যে, খুব শীঘ্রই ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে। শুধু তাই নয়, অদূর ভবিষ্যতে ইরানের খাড়গ দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো দখল করে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প লিখেছেন, “আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে।” তিনি দাবি করেন যে, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ইতিমধ্যেই অনেকাংশে ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ভেনিজুয়েলার মতোই আমরা ইরানের তেল ও গ্যাসের বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেব, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে।”
শান্তি আলোচনা বনাম সামরিক আক্রমণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পাশাপাশি, গত দুই দিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার পারস্য উপসাগরে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যার পাল্টা হিসেবে ইরান জর্ডান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা করেছে।
সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থতা ও ক্ষোভ ট্রাম্প ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ইরান সরকারকে উৎখাত করার জন্য তিনি কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আঞ্চলিক মিত্ররা সেই অস্ত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। ট্রাম্প বলেন, “কুর্দিরা আমাদের হতাশ করেছে, তবে আমি তা ভুলব না।”
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাবের আশঙ্কা হরমোজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল উত্তোলনের স্থানে এই সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও একদিকে যুদ্ধের হুমকি এবং অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে শান্তি আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে, তবুও বর্তমানে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান যুদ্ধের আবহকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল অবকাঠামো দখলের মতো পদক্ষেপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ সংঘাতের সূচনা হতে পারে।