দুই রাত চোখে ঘুম নেই, গণনাকেন্দ্রে কি নিজেই পাহারায় বসছেন মমতা? ভোট মিটতেই তোলপাড় করা বার্তা

পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই এখন টানটান উত্তেজনা। সবার নজর আগামী ৪ মে-র দিকে—সেদিনই জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বুথফেরত সমীক্ষা বা এগজিট পোল নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার বঙ্গবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিস্ফোরক ও আবেগঘন বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, সব প্রতিকূলতা উড়িয়ে দিয়ে তাঁর দল এবার ‘ম্যাজিক ফিগার’ অনেক আগেই পার করে যাবে।

‘আমরা ২২৬ পার করব’

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, “আমরা ২০২৬-এ ২২৬-এর বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছি।” গত দু-দিন ধরে চলা বুথফেরত সমীক্ষাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে শুরু করে ১৯টি রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অর্থ ও পেশিশক্তির আস্ফালন—সবই ব্যর্থ হবে জনগণের রায়ের কাছে। ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা মোদি-শাহের অত্যাচার সহ্য করে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

গণনাকেন্দ্রে কড়া পাহারার নির্দেশ

ফলাফল ঘোষণার আগে দলের প্রার্থী ও কর্মীদের বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দিতে নারাজ মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভাটপাড়া বা নোয়াপাড়ার মতো এলাকায় সারারাত পুলিশি অভিযান হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি গত দুই রাত ঘুমাইনি। প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেও সারারাত পাহারা দিতে রাজি।” কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া নির্দেশ, দিনের বেলায় কর্মীরা পাহারায় থাকবেন এবং রাতে প্রার্থীদের নিজেদের গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুমের ওপর নজর রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন গণনায় কারচুপি না হতে পারে, সেটাই এখন তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।

অশান্তি ও পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা

নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং দ্বিতীয় দফার ভোটে অশান্তির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, যেখানে যেখানে বিশৃঙ্খলা হয়েছে, সেখানে স্ক্রুটিনি চলছে। প্রয়োজন হলে ওই বুথগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণ বা ‘রি-পোল’ করা হতে পারে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও ফিল্ড অফিসারদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

বাংলার ২৯৪টি আসনেই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। একদিকে বিজেপির ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে মমতার ‘২২৬’ পার করার হুঙ্কার—সব মিলিয়ে ৪ মে-র মেগা ফাইটের আগে থমথমে উত্তেজনায় কাঁপছে বাংলা। শেষ হাসি কে হাসবেন, সেটাই এখন দেখার।