যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই ‘গোপন’ চুক্তি কি বাতিল করছে বিএনপি? ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে বড় সিদ্ধান্তের পথে ঢাকা!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিতর্কিত ‘বাণিজ্য চুক্তি’। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—বিএনপি সরকার কি পারবে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে করা এই ‘অসম’ চুক্তি বাতিল করতে? নাকি কূটনৈতিক চাপে বজায় রাখতে হবে আগের ধারাবাহিকতা?

গোপনীয়তার ঘেরাটোপ ও একতরফ চুক্তির অভিযোগ

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি সই করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সময় থেকেই অভিযোগ উঠেছিল, চুক্তিটি বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় বেশি সক্রিয়। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ড. খলিলুর রহমান (তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা) প্রধান ভূমিকা পালন করলেও, এর বিষয়বস্তু নিয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকেও অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী এবং বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এই চুক্তিকে ‘একপক্ষীয়’ এবং ‘অসম’ বলে বর্ণনা করেছে। তাঁদের দাবি, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়, তখনই কেবল এর ভেতরে থাকা শর্তগুলো সামনে আসে।

কোন পথে হাঁটবে বিএনপি সরকার?

চুক্তি বিরোধীদের মতে, একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে এই চুক্তি পর্যালোচনার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। যেহেতু এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে চুক্তিটি সরাসরি বাতিল করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার এখন একটি দোটানায় রয়েছে। একদিকে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা প্রমাণের চাপ, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক মসৃণ রাখার বাধ্যবাধকতা।

ট্রাম্পের হুমকি ও বাংলাদেশের অবস্থান

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোকে কড়া হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার যদি চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটে, তবে তার প্রভাব দেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ সামগ্রিক রপ্তানি বাণিজ্যে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপি সরকার কি সংসদে এই চুক্তি নিয়ে কোনো কঠোর অবস্থান নেবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহল।