যাদবপুরের মুকুটে নতুন পালক! প্রাক্তনীদের বিশ্বজয়কে কুর্নিশ জানাতে রাজকীয় পুরস্কারের ঘোষণা

দেশ হোক বা বিদেশ—যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) জয়গান এখন সর্বত্র। নীল-সাদা ক্যাম্পাসের সেই সব কৃতী সন্তানদের অনন্য সাফল্যকে কুর্নিশ জানাতে এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চালু হতে চলেছে এক বিশেষ সম্মাননা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিস্টিংগুইশড অ্যালামনাই–জেইউ (DA-JU) অ্যাওয়ার্ড’।
যাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আকাশছোঁয়া সাফল্য পেয়েছেন এবং বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তাঁদের হাতেই এবার থেকে তুলে দেওয়া হবে এই বিশেষ পদক। গত ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের (EC) বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে।
কোন ৫ বিভাগে মিলবে এই বিশেষ সম্মান?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নয়, বরং সাফল্যের পরিধি বিচার করে ৫টি ভিন্ন বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হবে:
-
অ্যাকাডেমিয়া ও গবেষণা: বিজ্ঞানের জটিল রহস্য বা গবেষণাগারের অসাধ্য সাধন।
-
কর্পোরেট নেতৃত্ব: বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে থাকা প্রাক্তনীরা।
-
উদ্যোগপতি ক্ষেত্র: স্টার্টআপ বা সফল ব্যবসার কারিগররা।
-
জনজীবন ও সমাজসেবা: যাঁরা সমাজের মূল স্রোতে কাজ করে বদল এনেছেন।
-
শিল্প-সাহিত্য ও সৃজনশীলতা: সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে যাঁরা বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছেন।
কারা পাবেন এই পুরস্কার?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত প্রাক্তনী বর্তমানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করেছেন এবং মনোনয়নের সময় জীবিত রয়েছেন, তাঁরাই এই সম্মানের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে শুধু সাফল্যের ডিগ্রি থাকলেই হবে না, তাঁর কাজের মাধ্যমে সমাজ বা বিশ্ব কতটা উপকৃত হয়েছে, সেই মানদণ্ডেই করা হবে বিচার।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে বিশেষ সেল ACER-JU। কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পৃথক বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে কোনো বিতর্কের সুযোগ না থাকে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
কেন এই উদ্যোগ? বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মহলের মতে, এই পুরস্কারের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়াদের সাথে প্রাক্তনীদের এক গভীর সেতুবন্ধন তৈরি হবে। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “প্রাক্তনীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতেই এই পুরস্কারের পরিকল্পনা। এর ফলে বর্তমান পড়ুয়ারা যেমন অনুপ্রেরণা পাবে, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব সারা বিশ্বের সামনে নতুন করে ফুটে উঠবে।”
যাদবপুরের প্রাক্তনীরা বর্তমানে নাসা থেকে গুগল—সব জায়গাতেই দাপটের সাথে কাজ করছেন। তাঁদের সেই কৃতিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগীরা। খুব শীঘ্রই এই পুরস্কার প্রদানের খুঁটিনাটি এবং আবেদন বা মনোনয়নের প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।