লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি তবে বন্ধ? মে মাসের টাকা ঢোকা নিয়ে বড় আপডেট! ৪ মে ফলপ্রকাশের পরেই কি বদলে যাবে সব হিসেব?

বাংলার রাজনীতির আঙিনায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চালিত এই প্রকল্প আজ রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনের আবহে এই প্রকল্পকে ঘিরেই ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনার মেঘ। মে মাসে কি আদৌ অ্যাকাউন্টে ঢুকবে প্রকল্পের টাকা? নাকি সরকার বদলের আশঙ্কায় থমকে যাবে এই জনপ্রিয় ভাতার ভবিষ্যৎ?

টাকার অংক বেড়েছে বারবার
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর যখন এই প্রকল্প শুরু হয়, তখন সাধারণ জাতির মহিলারা পেতেন ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা পেতেন ১০০০ টাকা। সময়ের সাথে সাথে এই ভাতার পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে সাধারণ জাতির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন।

মে মাসের টাকা নিয়ে কেন এই ধোঁয়াশা?
নির্বাচন চলাকালীন বর্তমানে রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ রয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের সময় সরকারি প্রকল্পের নতুন সুবিধা প্রদান বা অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনে প্রশাসনিক কিছু জটিলতা তৈরি হয়। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্বাচনের এই ডামাডোলে এবং ফল প্রকাশের আগে সরকারি কাজ কিছুটা মন্থর থাকায় মে মাসের টাকা বিতরণ সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে।

সরকার বদল হলে কী হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ?
নির্বাচনী প্রচারে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে হাতিয়ার করেছে। একদিকে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা দেবে। পাশাপাশি বেকার যুবকদেরও মাসিক ৩,০০০ টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, যদি ৪ মে-র পর সরকার বদল হয়, তবে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে? না কি বিজেপির প্রতিশ্রুত ৩,০০০ টাকার নতুন প্রকল্প চালু হবে? তবে সেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ঠিক কবে থেকে চালু হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

পড়ুয়া ও মহিলারা তাকিয়ে ৪ মে-র দিকে
আপাতত রাজ্য প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, ফল প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে। তবে সরকার যারাই গঠন করুক, জনমোহিনী এই প্রকল্প একেবারে বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। ৪ মে দুপুরের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা ঢুকবে নাকি ৩০০০ টাকা পাওয়ার নতুন আশা তৈরি হবে।