রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ‘বড়’ জয়! ডিএ বকেয়া নিয়ে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, মমতা সরকারের ওপর চাপ বাড়াল পাঞ্জাব?

এ রাজ্যে যখন মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে রাজ্য সরকার ও কর্মীদের মধ্যে দড়ি টানাটানি তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাজ্যে ডিএ মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দিল আদালত। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আর্থিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সরকারি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার কড়া ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে আদালত।
পাঞ্জাব হাইকোর্টের ‘ধমক’ ও ঐতিহাসিক নির্দেশ
পাঞ্জাবের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ডিএ বকেয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় শুনানি ছিল সম্প্রতি। সেখানে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন টালবাহানায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি সাফ জানান, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনও করুণা নয়, এটি কর্মীদের সাংবিধানিক অধিকার।
আদালতের নির্দেশের মূল বিষয়গুলি হলো:
৩০ জুনের ডেডলাইন: আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিআর (Pensionsers’ Dearness Relief) মিটিয়ে দিতে হবে।
সুদসহ জরিমানা: যদি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা মেটানো না হয়, তবে রাজ্য সরকারকে বিলম্বিত সময়ের জন্য সুদ-সহ বকেয়া দিতে হবে।
বয়স ভিত্তিক বিভাজন রদ: পাঞ্জাব সরকার বয়সের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পেনশন মেটানোর যে নির্দেশিকা জারি করেছিল, তাকে ‘অসাংবিধানিক’ এবং সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার পরিপন্থী বলে বাতিল করেছে আদালত।
সমতা ও অভিন্ন শ্রেণির স্বীকৃতি
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, পেনশনভোগীদের মধ্যে কোনও বৈষম্য করা চলবে না। সবাইকে একটি ‘অভিন্ন শ্রেণি’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্যাটার্ন (AICPI) মেনে সমান হারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে পাঞ্জাবের মুখ্য সচিবকে এই মর্মে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
বাংলায় ডিএ জট: এই রায়ের প্রভাব কতটা?
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা সত্ত্বেও তা হাতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ। পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের এই রায় এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মনোবল অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য রাজ্যের হাইকোর্টের রায় সরাসরি কার্যকর না হলেও, আইনি যুক্তির খাতিরে সুপ্রিম কোর্টে বা এ রাজ্যের ডিএ মামলায় এই রায়কে ‘রেফারেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ— “আর্থিক সংকটের দোহাই দিয়ে কর্মীর পাওনা আটকানো যাবে না”— তা বাংলার ডিএ জট কাটাতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, ৩০ এপ্রিলের এই বড় আপডেট সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করল।