কলকাতায় ভোট-বিস্ফোরণ! ১১৪ বছরের ইতিহাস ভেঙে ৯২.৬৭% পোলিং, কীসের ভয়ে বুথে উপচে পড়ল ভিড়?

গত বুধবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটদানের যে ছবি দেখল বাংলা, তাকে এক কথায় ‘ঐতিহাসিক’ বললেও কম বলা হয়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৯২.৬৭ শতাংশে। রাজনীতির কারবারিদের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে কখনও এত বিপুল হারে পোলিং দেখা যায়নি।

কলকাতার অনীহা অতীত, ক্যানিং-ভাঙড়ে ইতিহাস
কলকাতার ভোটারদের মধ্যে সাধারণত ভোটদান নিয়ে এক ধরণের অনীহা দেখা যায়। কিন্তু ২০২৬-এর এই মহারণে সেই মিথ ভেঙে চুরমার।

কলকাতা উত্তর: এখানে ভোট পড়েছে ৮৯.৩%।

কলকাতা দক্ষিণ: ভবানীপুর সহ এই অঞ্চলে ভোটের হার ৮৭.৮৪%।

ক্যানিং পূর্ব: ৯৭.৭% ভোট পড়ে এক নয়া নজির সৃষ্টি করেছে।

ভাঙড় ও অন্যান্য: ভাঙড়ে ভোটদানের হার ৯২.৩৬%, যেখানে ভবানীপুরে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পোলিং ছিল ৮৬.৪৩%।

২০১১ সালে রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের বছর বঙ্গে ভোটের হার ছিল ৮৪.৩%। এবার সেই রেকর্ড ধুয়ে মুছে গিয়ে গড় ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯%। ২০২১ সালের তুলনায় কলকাতায় ভোটদানের হার এক ধাক্কায় প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেন এই রেকর্ড ভিড়? বিশ্লেষকদের চোখে ‘দুই ফ্যাক্টর’
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটারদের এই নজিরবিহীন স্বতঃস্ফূর্ততার পিছনে দুটি বড় কারণ কাজ করছে:

১. এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া: বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম কাটা যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২. পরিযায়ী শ্রমিক ও নাম কাটার আতঙ্ক: যাঁদের নাম তালিকায় রয়ে গিয়েছে, তাঁরা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্য থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন শুধু নামটুকু টিকিয়ে রাখার তাগিদে। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এবার ভোট না দিলে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় হয়তো তাঁদের নামও ছেঁটে ফেলা হতে পারে।

এছাড়া আবাসনগুলিতে বুথ হওয়া এবং ভোটারদের মধ্যে বুথমুখী হওয়ার বাড়তি তাগিদ এই পরিসংখ্যানকে আকাশছোঁয়া উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল ভোট কার বাক্সে গেল? অতিরিক্ত ২৮ শতাংশ ভোট কি শাসকদলের হাত শক্ত করবে না কি পরিবর্তনের হাওয়াকে আরও জোরালো করবে? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।