শূন্য থেকে শিখরে! গ্ল্যামার দুনিয়ার সামান্থার আসল পরিচয় জানেন? ‘যশোদা’ নামের আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য!

আজ তিনি রুপোলি পর্দার রানি। দক্ষিণী ছবি থেকে বলিউডের বিগ বাজেট ওয়েব সিরিজ— সামান্থা রুথ প্রভু মানেই বক্স অফিসে গ্যারান্টিড সাফল্য। গ্ল্যামার আর খ্যাতির আলোয় ঝলমল করা এই অভিনেত্রীর জীবন দেখে অনেকেই মনে করেন, তিনি বোধহয় সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছেন। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। গ্ল্যামার দুনিয়ার এই সুপারস্টারের সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত মেয়ের কঠিন লড়াইয়ের গল্প।
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে রুপোলি পর্দা: এক অসাধ্য সাধন
চেন্নাইয়ের এক মালয়ালি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সামান্থার। বাবা-মা বরাবরই চাইতেন মেয়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ুক। কিন্তু সামান্থার স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। তবে সেই পথ মসৃণ ছিল না। ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাঁকে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। এক সময় আর্থিক অভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁকে পার্ট-টাইম মডেলিং করতে হতো।
‘যশোদা’: শুধু সিনেমার নাম নয়, সামান্থার আসল পরিচয়
সামান্থার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক মজার তথ্য হয়তো অনেকেরই অজানা। বড় পর্দায় তাঁকে সামান্থা নামে চিনলেও, তাঁর কাছের মানুষ এবং পরিবার তাঁকে আদর করে ডাকেন ‘যশোদা’ নামে। কাকতালীয়ভাবে, ২০২২ সালে তাঁর অভিনীত একটি সুপারহিট থ্রিলার ছবির নামও ছিল ‘যশোদা’। এই অদ্ভুত সংযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে ওঠে। পর্দার চরিত্রের সাথে বাস্তব জীবনের ডাকনামের এমন মিল খুব কম অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
সফল ক্যারিয়ার ও সাধারণ যাপন
‘ইয়ে মায়া চেসাভে’ দিয়ে শুরু করে আজ তিনি ‘ইগা’, ‘মার্সাল’, ‘সুপার ডিলাক্স’ কিংবা ‘মজিলি’-র মতো ব্লকবাস্টার ছবির মালকিন। ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ এবং ‘সিটাডেল: হানি বানি’-র মাধ্যমে নিজের অভিনয়ের ধার প্রমাণ করেছেন তিনি। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, সামান্থা আজও সেই সাদামাটা জীবন দর্শন এবং সংগ্রামী মেজাজ ধরে রেখেছেন।
আসলে সামান্থার এই উত্থান প্রমাণ করে যে, প্রতিভা আর জেদ থাকলে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত মেয়েও গোটা ভারতের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠতে পারে। তাঁর এই সফর যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনই সাহসের গল্প শোনায়।