বিজেপিতে যোগ দিতেই বিপাকে সন্দীপ পাঠক! নারী নির্যাতন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাঁড়াশি অভিযানে পুলিশ

আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে পদ্মশিবিরে নাম লেখানোর পরেই বড়সড় আইনি বিপাকে পড়লেন রাজ্যসভা সাংসদ সন্দীপ পাঠক। পাঞ্জাবের দুটি পৃথক জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি ও পাঞ্জাব পুলিশ যৌথভাবে তাঁর বাসভবনে হানা দিলেও, রহস্যজনকভাবে তার আগেই নিখোঁজ হয়েছেন এই বিজেপি সাংসদ।
নারী শোষণ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ
সূত্রের খবর, সন্দীপ পাঠকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো কোনো সাধারণ ধারায় নয়, বরং জামিন অযোগ্য ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নারী শোষণ এবং বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিলক মার্গ থানার এসএইচও-র নেতৃত্বে দিল্লি পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী পান্ডারা পার্কে তাঁর বাসভবন ঘিরে ফেলে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক কয়েক মিনিট আগেই তিনি বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে যান বলে জানা গেছে।
“কল্পনাও করিনি এমনটা হবে”: বিস্ফোরক সন্দীপ
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সন্দীপ পাঠক। তিনি বলেন, “আমি ১০ বছর এই দলের (আপ) অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলাম। নতুন ধারার রাজনীতি এবং কাজের টানেই আমি আম আদমি পার্টিতে এসেছিলাম। এই দীর্ঘ সময় আমি দলের স্বার্থে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি যে এমন দিকে মোড় নেবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি।”
পাঞ্জাব রাজনীতিতে কম্পন: রণকৌশলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও ভগবন্ত মান
২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে সন্দীপ পাঠকের দলত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে এই জোড়া মামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একে একদিকে ‘আপ’-এর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও বিচার করা হচ্ছে। আপ নেতৃত্ব ইতিমধ্যে তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
রাষ্ট্রপতির দরবারে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান
এদিকে, পরিস্থিতি এখন আর শুধু পাঞ্জাবে সীমাবদ্ধ নেই। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এই রাজনৈতিক দলবদলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আগামী ৫ই মে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় চেয়েছেন। জানা গেছে, বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যসভা সাংসদদের পদ বাতিলের দাবি বা তাঁদের ফিরিয়ে আনার আইনগত জটিলতা নিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হতে চলেছেন।
পাঞ্জাব রাজনীতির এই নয়া মোড় এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সন্দীপ পাঠক কি তবে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি এই লড়াই গড়াবে উচ্চ আদালতে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।