১১ হাজার ভোটার আউট! ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড ঘিরে কেন রণংদেহি মেজাজে শুভেন্দু অধিকারী?

দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর মানেই হাই-ভোল্টেজ রাজনীতির ভরকেন্দ্র। কিন্তু এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড— ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ওয়ার্ডটি নিয়ে বারবার সরব কেন? কেন এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘লিড জেনারেটর’ হিসেবে পরিচিত? ডেইলিয়ান্ট-এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে জেনে নিন এর নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর কারণ।

১. ভোটার তালিকায় ১১ হাজার নাম উধাও!

সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছেন যে, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় বিস্তর কারচুপি ছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) সময় এই ওয়ার্ডের প্রায় ১১ হাজার মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে দাবি করছেন বিজেপি কর্মীরা। শুভেন্দুর মতে, এই বিশাল সংখ্যক ভোটারদের স্বচ্ছতা বজায় থাকলে ভবানীপুরের সামগ্রিক ফলাফল আমূল বদলে যেতে পারে।

২. তৃণমূলের ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ ও লিড ফ্যাক্টর

ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে, এই ওয়ার্ডটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে কাজ করে। এই ওয়ার্ড থেকে পাওয়া বিপুল লিড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধানকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। শুভেন্দু অধিকারীর কৌশল হলো, এই ‘সলিড ভোট ব্যাঙ্ক’-এ আঘাত হেনে তৃণমূলের লিড কমিয়ে আনা।

৩. ফিরহাদ হাকিমের প্রভাব ও শুভেন্দুর টার্গেট

৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটি মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের খাসতালুক হিসেবেও পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এখানে ভোট লুট এবং বহিরাগতদের আনাগোনা হয়। তাই তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে এই নির্দিষ্ট ওয়ার্ডটিকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, এই ওয়ার্ডে স্বচ্ছ ভোট হলে তৃণমূলের জয়জয়কার থমকে যাবে।

৪. বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতেই বিজেপি লিড নিয়েছিল। কিন্তু ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের মতো এলাকাগুলো থেকেই তৃণমূল পুনরায় ঘুরে দাঁড়ায়। শুভেন্দু অধিকারী ভালো করেই জানেন, মমতার গড় ভাঙতে হলে আগে ৭৭ নম্বরের ‘দেওয়াল’ ভাঙতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রতিদিন এই ওয়ার্ডটি নিয়ে তোপ দাগছেন।