“লাশ হয়ে ফিরলে তবেই টাকা?” ওড়িশার কঙ্কাল কাণ্ডে বিহিত চান মুখ্যমন্ত্রী, পাল্টা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ব্যাঙ্ক সমিতির!

মৃত্যুর প্রমাণ দিতে মৃত বোনের হাড়গোড় বা কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির ভাই! ওড়িশার কেওনঝড় জেলার এই মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা ঘটনা এবার জাতীয় স্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাঙ্ক কর্মীদের নিরাপত্তা ও অপমানের দোহাই দিয়ে আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সমিতি।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে? কেওনঝড় জেলার মালিপোসি গ্রামের আদিবাসী ব্যক্তি জিতু মুন্ডা তাঁর দিদি কালরা মুন্ডার জমানো প্রায় ১৯,৪০০ টাকা তুলতে ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। দিদি মাস দুয়েক আগে মারা গেলেও ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ বা মৃত্যুর প্রমাণ। জিতু মুন্ডা শিক্ষিত না হওয়ায় আইনি কাগজপত্রের মারপ্যাঁচ বোঝেননি। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্মীদের কথায় তিনি এতটাই অসহায় বোধ করেন যে, দিদির সমাধিস্থল খুঁড়ে কঙ্কাল বের করে বস্তায় ভরে সোজা ব্যাঙ্কে নিয়ে চলে আসেন।
মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক তৎপরতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় কঙ্কাল হাতে জিতুর ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি উত্তর ডিভিশনের আরডিসি (RDC)-কে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তড়িঘড়ি জিতু মুন্ডাকে ১৯,৩০০ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জেলা রেড ক্রস তহবিল থেকে ৩০,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।
পাল্টা হুঁশিয়ারি ব্যাঙ্ক সমিতির: এদিকে, এই ঘটনায় ব্যাঙ্ক কর্মীদের দিকে আঙুল ওঠায় ক্ষুব্ধ ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সমিতি। তাঁদের দাবি, নিয়ম মেনেই কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় ব্যাঙ্কের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে অভিযোগ তুলে তাঁরা পাল্টা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “নিয়ম না মানলে ব্যাঙ্ক কর্মীদের ওপর কোপ পড়ে, আবার নিয়ম মানলে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে।”
ডেইলিয়ান্ট স্পেশাল নোট: উন্নতির যুগেও এক আদিবাসী মানুষকে নিজের প্রিয়জনের কঙ্কাল নিয়ে কেন পথে নামতে হলো, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা প্রশাসনিক এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার চরম সংবেদনশীলতার অভাবকেই প্রকট করে তুলেছে।