হানিমুন হোরর: স্বামী খুনে অভিযুক্ত বোনকে ত্যাজ্য করলেন দাদা, সোনমের জন্য বন্ধ বাড়ির দরজা!

মেঘালয়ের মেঘ-পাহাড়ের আড়ালে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার খোদ পরিবারের অন্দরেই বিদ্রোহ। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম প্রধান জামিন পেলেও, তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিতে সাফ মানা করে দিলেন তাঁর আপন দাদা। দাদার সাফ কথা— “অসম্ভব! যে নিজের স্বামীকে শেষ করে দিতে পারে, তাকে ঘরে জায়গা দেওয়া মানে মৃত্যু ডেকে আনা।”

ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত কয়েকমাস আগে মেঘালয়ের এক রিসর্টে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন সোনম ও তাঁর স্বামী। সেখানেই রহস্যজনকভাবে খুন হন তাঁর স্বামী। তদন্তে নেমে পুলিশ সোনমের বিরুদ্ধে অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পায় এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি আইনি লড়াইয়ের পর সোনম জামিন পেলেও তাঁর সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ অনিশ্চয়তা।

দাদার কঠোর অবস্থান: সোনমের দাদা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের পর সোনমের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চায় না তাঁর পরিবার। তিনি বলেন:

“আমাদের পরিবার চিরকাল সম্মান নিয়ে বেঁচেছে। সোনম যা করেছে তা শুধু আইন নয়, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ও জামিন পেলেও আমার বাড়িতে ওর ঠাঁই নেই। ওকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।”

এখন কোথায় যাবেন সোনম? আদালতের পক্ষ থেকে জামিন দিলেও সোনমের সামনে এখন এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি— দুই তরফ থেকেই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা সরকারি শেল্টার হোমের আশ্রয় নেবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।

আইনি জটিলতা: যদিও সোনম এই মুহূর্তে মুক্ত, তবে মেঘালয় পুলিশের চার্জশিটে তাঁকে মূল অভিযুক্ত হিসেবেই রাখা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সোনমকে হাজিরা দিতে হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কঠোর সাজার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পারিবারিক প্রত্যাখ্যান সোনমের মানসিক চাপের পাশাপাশি আইনি লড়াইকেও আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।