ইভিএম-এ টেপ দিলেই ভোট বাতিল! ফলতার বুথে বুথে কারচুপি ধরল ওয়েব কাস্টিং, কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন

২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় উত্তপ্ত দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতি। একদিকে যখন শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি করছে প্রশাসন, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ইভিএম (EVM) কারচুপির এক নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, বুথের ভেতর বিজেপি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সেলোটেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।

ইভিএম-এ টেপ ও আতর বিতর্ক: বুধবার সকাল থেকেই ফলতার একাধিক বুথ থেকে গুরুতর অভিযোগ আসতে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইভিএম মেশিনে বিজেপি প্রার্থীর বোতাম ও প্রতীকের ওপর সাদা টেপ লাগানো হয়েছে, যাতে ভোটাররা প্রতীকটি দেখতে না পান। এখানেই শেষ নয়, ২৫২, ২৩৫, ২২৬, ১৮৬ ও ২৪১ নম্বর বুথসহ বেশ কিছু জায়গায় ইভিএম-এ কড়া গন্ধযুক্ত আতর ঢেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের তির শাসকদল তৃণমূলের দিকে হলেও তারা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কমিশনের কড়া বার্তা: এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান:

“যেখানে যেখানে ইভিএম-এ টেপ লাগানো হয়েছে বা কারচুপি হয়েছে, তা ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে ধরা পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট হাতে পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা স্পষ্ট বলছি, এই ধরনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স দেখানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচন (Re-poll) করানো হবে।”

দ্বিতীয় দফায় অশান্তির মেঘ: প্রথম দফার ভোট মোটামুটি শান্তিতে মিটলেও দ্বিতীয় দফায় ফলতা এবং মগরাহাটে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। ভবানীপুরেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে।

কবে হবে পুনর্নির্বাচন? কমিশন সূত্রে খবর, ফলতার ওই বুথগুলো থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিচার করে আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারেই ওই নির্দিষ্ট বুথগুলোতে পুনরায় ভোটগ্রহণ হতে পারে। কারচুপি প্রমাণ হলে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কমিশন।

নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতি মুহূর্তের ব্রেকিং আপডেটের জন্য চোখ রাখুন আমাদের পেজে।