“লাঠি দিয়ে টর্চার করা হচ্ছে?” ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অ্যাকশনে ফুঁসছেন দিদি, বড় অভিযোগ কমিশনে!

২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ের দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় নিজের ভোট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার দুপুরে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে বেরোনোর পর তাঁর চোখেমুখে ধরা পড়ল তীব্র ক্ষোভ। বুথের নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত ফেটে পড়লেন তিনি।

“বুথে কেন রাজ্য পুলিশ নেই?” এদিন ভোট দিয়ে বেরিয়েই নির্বাচন কমিশনের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি দেখলাম কোনো বুথেই রাজ্য পুলিশ নেই। কেন সব জায়গায় শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী? মানুষকে কী মারটাই না মারছে ওরা!” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং টর্চার করা হচ্ছে। রাজ্য পুলিশকে ব্রাত্য করে কেন একতরফা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তা নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু: এদিন ভবানীপুরে হাইভোল্টেজ উত্তেজনা তৈরি হয় যখন একই সময়ে ওই বুথ এলাকায় পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে মমতা যখন বাহিনীর বিরুদ্ধে টর্চারের অভিযোগ আনছেন, তখন পাল্টা শুভেন্দু দাবি করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোক জড়ো করে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন।” দুই হেভিওয়েটের উপস্থিতিতে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।

কমিশনে নালিশের প্রস্তুতি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরণের “সন্ত্রাস” এবং “গুণ্ডামি” মেনে নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যেভাবে ভোটারদের সঙ্গে আচরণ করছে, তার বিরুদ্ধে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হচ্ছে।

ডেইলিয়ান্ট ইনসাইট: আজকের এই দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের এই দফার ওপরই নির্ভর করছে নবান্নের চাবিকাঠি কার হাতে যাবে। মমতার এই বিস্ফোরক বয়ান কি বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলা।