‘১’-এর বদলে ‘৪’ লিখে চরম বিপত্তি! মেঘালয় ‘হানিমুন মার্ডার’ কেসে চাঞ্চল্যকর মোড়, পুলিশের টাইপোতে জেলমুক্ত স্ত্রী!

মেঘালয়ের পাহাড়ে মধুচন্দ্রিমা করতে গিয়ে স্বামী খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তাঁর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী। কিন্তু চাঞ্চল্যকরভাবে, পুলিশের নথিতে সামান্য এক ‘টাইপো’ বা টাইপিং ভুলের সুযোগ নিয়ে জেল থেকে জামিন পেয়ে গেলেন অভিযুক্ত স্ত্রী। মেঘালয়ের একটি আদালতের এই রায়ে স্তম্ভিত রাজার পরিবার।
ঘটনাটি ঠিক কী? ২০২৫ সালের মে মাসে ইন্দোরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে বিয়ে হয় সোনমের। বিয়ের কয়েকদিন পরই তাঁরা মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমা কাটাতে যান। গত বছরের ২৩ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজা। দীর্ঘ ১০ দিন পর চেরাপুঞ্জির একটি গভীর খাদ থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ ওঠে, নিজের প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করিয়েছেন সোনম।
কী সেই ভুল যা কাল হলো? ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী খুনের মামলার ধারা হলো ১০৩(১)। কিন্তু শিলং আদালত লক্ষ্য করেছে, পুলিশের দেওয়া অ্যারেস্ট মেমো, কেস ডায়েরি এবং রিমান্ডের নথিতে বারবার খুনের ধারার বদলে ৪০৩(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, বি এন এস-এ ৪০৩(১) বলে কোনো ধারাই নেই! এছাড়া কোথাও কোথাও এই নম্বরটিকে ‘সম্পত্তি আত্মসাৎ’-এর ধারা হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারক ড্যাশালিন খারবটেং সাফ জানিয়েছেন, এটিকে শুধু ‘করণিক ভুল’ (Clerical error) হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ—
-
প্রতিটি সরকারি নথিতেই একই ভুল নম্বর লেখা হয়েছে।
-
ধৃত সোনমকে ঠিক কী কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা আইন মেনে সঠিকভাবে জানানো হয়নি।
-
এর ফলে অভিযুক্তের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
এই পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ৫০ হাজার টাকার বন্ডে সোনম রঘুবংশীকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার: ছেলের খুনি এভাবে জামিন পাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন রাজার মা উমা রঘুবংশী। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, “পুলিশের এই ভুল কি অনিচ্ছাকৃত নাকি টাকার বিনিময়ে সোনমকে বাঁচানোর ছক?” এই ঘটনার সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাজার পরিবার। পুলিশের এক সামান্য ‘টাইপো’র কারণে এক নৃশংস খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া যে বড়সড় ধাক্কা খেল, তা বলাই বাহুল্য।