“Hooligans attacking me!” মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়েই ফোন শুভেন্দুর; জয় বাংলা বনাম জয় শ্রীরাম স্লোগানে কাঁপল ভবানীপুর

সকাল থেকেই পারদ চড়ছিল, কিন্তু বেলা ১২টা বাজতেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ভবানীপুর। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী—দুই হেভিওয়েটের টক্করে তুঙ্গে উত্তেজনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, বিক্ষোভকারীদের হঠাতে কালীঘাটে লাঠিচার্জ করতে হলো কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

জয় হিন্দ ভবনে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান
ঘটনার সূত্রপাত বেলা পৌনে বারোটা নাগাদ। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী যখন জয় হিন্দ ভবনের কাছে পৌঁছান, তখনই পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। শুভেন্দুকে দেখা মাত্রই তৃণমূল সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরাও। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশো মানুষের ভিড়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় জওয়ানদের।

শুভেন্দুর ফোন এবং ‘হুলিগ্যান্স’ তত্ত্ব
বিক্ষোভের মুখে মেজাজ হারাননি শুভেন্দু। উল্টে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে বিক্ষোভের ভিডিও করেন তিনি। এরপর সরাসরি ফোন করেন উচ্চপদস্থ মহলে। ফোনে তাঁকে উত্তেজিত গলায় বলতে শোনা যায়— “Hooligans attack me. Booth number 217”। তাঁর অভিযোগ, যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা কেউই এলাকার মানুষ নয়, বরং প্রত্যেকেই বহিরাগত।

মুখোমুখি শুভেন্দু-কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান স্থানীয় কাউন্সিলর কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু এবং কাজরি একেবারে মুখোমুখি হয়ে পড়েন। শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। সংবাদমাধ্যমের সামনে কাজরি অভিযোগ করেন:

“উনি (শুভেন্দু) এসে অযথা শান্তিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। সাথে আরএএফ (RAF) নিয়ে ঘুরছেন। সাধারণ ভোটাররাই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।”

কালীঘাটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ
শুভেন্দুর সেই ফোন কলের ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় ফোর্সের অতিরিক্ত জওয়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কালীঘাটে লাঠিচার্জ শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠির ঘায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

এই মুহূর্তে গোটা এলাকা থমথমে। বুথে বুথে টহল দিচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী। ভবানীপুরের এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।