চালু হলো দেশের দীর্ঘতম গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে! ৫৯৪ কিমি পথে নামার আগে সাবধান, জ্বালানি নিয়ে বড় বিপত্তি?

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার মুকুটে যুক্ত হলো নতুন পালক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ হরদোইয়ের মল্লাওয়ানে দেশের দীর্ঘতম গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে (৫৯৪ কিমি)-র উদ্বোধন করলেন। উদ্বোধনের সাথে সাথেই সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে এই হাইওয়ের সমস্ত এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট। তবে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গতি বাড়ানোর আনন্দ থাকলেও সিএনজি (CNG) গাড়ি চালকদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার খবর রয়েছে।

সিএনজি গাড়িতে সফর? আগে পড়ুন এই আপডেট
আপনার গাড়ি যদি সিএনজি চালিত হয়, তবে এই মুহূর্তে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

জ্বালানি সংকট: বর্তমান অবস্থায় এই পুরো ৫৯৪ কিলোমিটারের স্ট্রেচে একটিও সিএনজি পাম্প চালু নেই।

আশার আলো: আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। আগামী ১-২ দিনের মধ্যেই সিএনজি পরিষেবা স্বাভাবিক হতে পারে।

পেট্রোল ও ডিজেল: পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ি চালকদের অবশ্য চিন্তা নেই। প্রতি ১০০ কিলোমিটার অন্তর পেট্রোল পাম্প রয়েছে, যার অধিকাংশ আজ দুপুর থেকেই সক্রিয় করা হয়েছে।

টোল ট্যাক্সে ‘ডিজিটাল’ ম্যাজিক: পকেটে টান পড়বে আজ রাত থেকে
এই এক্সপ্রেসওয়েতে টোলের নিয়ম একেবারেই আলাদা।

দিল্লি-মুম্বই হাইওয়ের ধাঁচ: ওঠার সময় কোনো টাকা দিতে হবে না বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির তথ্য নিয়ে নেবে।

কিলোমিটার প্রতি টাকা: আপনি কতটা পথ অতিক্রম করলেন এবং কোন পয়েন্ট দিয়ে নামলেন, তার ওপর ভিত্তি করে টাকা কাটা হবে।

সময়সীমা: আজ রাত ১২টা থেকেই এই টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা কাটা শুরু হবে।

সুরক্ষায় ‘অভেদ্য’ কেল্লা: প্রতিটি ইঞ্চিতে নজরদারি
৩৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েকে নিরাপত্তার দিক থেকে ‘দুর্গ’ বলা হচ্ছে।
১. সুপার ক্যামেরা: হাইওয়েতে এমন শক্তিশালী ক্যামেরা বসানো হয়েছে যা দেড় কিলোমিটার দূরের ছবিও স্পষ্টভাবে তুলতে পারে।
২. ৫০০ মিটার আগেই স্ক্যানিং: আপনি টোল প্লাজায় পৌঁছানোর ৫০০ মিটার আগেই আপনার গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান হয়ে যাবে।
৩. জিরো টলারেন্স: আধিকারিকদের দাবি, এক্সপ্রেসওয়ের “প্রতিটি সেন্টিমিটার” ক্যামেরার নজরদারিতে রয়েছে। ফলে আইন ভাঙলেই কড়া শাস্তি নিশ্চিত।

জরুরি পরিষেবা ও গোল্ডেন আওয়ার
যাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে রয়েছে বিলাসবহুল ‘রেস্ট এরিয়া’, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। যে কোনো দুর্ঘটনার মোকাবিলা করতে প্রতিটি টোল বুথে অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল কিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই আহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যায়।