বিয়ের ৭ মাসেই যমজ সন্তানের বাবা! রাজস্থানে নতুন বউয়ের ‘কীর্তি’ দেখে মাথায় হাত স্বামীর, সামনে এল ভয়ংকর প্রতারণা

একেই বোধহয় বলে ‘প্রকৃতির অলৌকিক’ নয়, বরং ‘প্রতারণার চূড়ান্ত’! রাজস্থানের সিকার জেলার দন্তরামগড় এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অবিশ্বাস্য বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। বিয়ের মাত্র সাত মাস পর যখন যুবক যমজ সন্তানের বাবা হন, তখন খুশির বদলে তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। সামনে আসে এক সুপরিকল্পিত জালিয়াত চক্রের রূপ।

অবিবাহিত পরিচয়ে বিয়ে ও প্রতারণার ছক
ভুক্তভোগী যুবক পাছার গ্রামের বাসিন্দা। গত বছর ২০২৫ সালের ১লা মার্চ জয়পুরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিমলার (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কনের পরিবার দাবি করেছিল মেয়ে অবিবাহিত। আইন মেনেই রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু বিয়ের পাঁচ দিন কাটতে না কাটতেই শুরু হয় আসল খেলা।

গয়না নিয়ে চম্পট
বিয়ের পর থেকেই বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য বারবার অশান্তি শুরু করে নতুন বউ। ২০ জুন বাপের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের অজুহাত দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সোনা ও রুপার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় সে। এরপর আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন হয়তো নতুন বউয়ের মানিয়ে নিতে সময় লাগছে, কিন্তু সত্য ছিল অনেক বেশি ভয়ংকর।

যমজ সন্তানের জন্ম ও রহস্য ফাঁস
আসল মোড় আসে গত ১৬ই অক্টোবর। বিমলা যমজ সন্তানের জন্ম দেন। বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় সন্তানের জন্ম হওয়া যুবকের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। তিনি নিজেই যখন তদন্ত শুরু করেন, তখন বেরিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য। জানা যায়, যাকে তিনি কুমারী বলে বিয়ে করেছিলেন, সেই নারী আসলে ২০১৬ সালেই রাজসামন্দের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন! অর্থাৎ, আগের বিয়ের কথা লুকিয়ে তিনি আবার বিয়ে করেন এবং গয়না লুঠ করেন।

পুলিশি তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
পুরো ঘটনাটি যে একটি সুপরিকল্পিত ‘মধুচক্র’ বা প্রতারণা, তা বুঝতে আর বাকি নেই কারোর। ভুক্তভোগী যুবক আদালতের মাধ্যমে দন্তরামগড় থানায় বিমলা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চুরির মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এই চক্রান্তের পেছনে আর কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে রাজস্থানের এই ‘ধূর্ত বধূ’র গল্প এখন সবার মুখে মুখে। লোক ঠকিয়ে টাকা ও গয়না হাতানোর এই নতুন কৌশলে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষও।