কাশীর রাস্তায় মোদী-ঝড়! হাতে ত্রিশূল-ডমরু নিয়ে বিশ্বনাথ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী, দেখুন মহাদেব-ভক্তির সেই ভাইরাল ভিডিও

আজকের সকালটা বারাণসীর জন্য ছিল উৎসবের। বুধবার, ২৯শে এপ্রিল—নিজের সংসদীয় কেন্দ্রের সফরের দ্বিতীয় দিনে এক অভাবনীয় শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেনারস লোকোমোটিভ ওয়ার্কস (BLW) থেকে শুরু করে কাশী বিশ্বনাথ ধাম পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল রোড-শোতে অংশ নিলেন তিনি। বিজেপির দাবি, এটিই বারাণসীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জনসভা।

জনসমুদ্রে ভাসলেন মোদী
লাহারতারা, কাছারি, আম্বেদকর স্কোয়ার হয়ে তেলিয়াবাগ ও ময়দাগিন—রাস্তার দু’ধারে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রীর এক ঝলক পেতে উন্মুখ হাজার হাজার মানুষ। কেউ ফুলের পাপড়ি ছুড়ছেন, কেউ বা শঙ্খ ও ঢাক বাজিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীকে। গেরুয়া বসনধারী বিজেপি কর্মীদের নাচে ও গানে গোটা পথ জুড়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীও খোলা জিপে হাত নেড়ে বারবার বারাণসীবাসীর ভালোবাসার জবাব দেন।

হাতে ত্রিশূল ও ডমরু: বিশ্বনাথ ধামে ভক্তি-চিত্র
রোড-শো শেষে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান পবিত্র কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে। সেখানে গর্ভগৃহে বসে তিনি প্রায় ২০ মিনিট ধরে গভীর একাগ্রতায় পূজা সম্পন্ন করেন। পাঁচজন পুরোহিতের উপস্থিতিতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে চলে আচার-অনুষ্ঠান। কপালে দীর্ঘ ত্রিপুণ্ড্র আর গলায় রুদ্রাক্ষের মালা পরে মোদী যখন মন্দির থেকে বের হন, তখন তাঁর হাতে দেখা যায় মহাদেবের প্রতীক ‘ত্রিশূল ও ডমরু’। ভক্তদের ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গঙ্গার ঘাট।

শিশুদের সঙ্গে কথোপকথন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা
মন্দির চত্বরে উপস্থিত খুদেদের সঙ্গেও হালকা মেজাজে কথা বলতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মন্দিরের ছবি শেয়ার করে তিনি আবেগী এক বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন:

“হর হর মহাদেব! কাশীর বাবা বিশ্বনাথ মন্দিরে পূজা করার সৌভাগ্য হলো। দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রার্থনা করেছি। মা অন্নপূর্ণা ও মা গঙ্গার সান্নিধ্যে আমি অপার শান্তি পেয়েছি।”

বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ অরবিন্দ মিশ্র জানান, বারাণসীবাসীর এই উন্মাদনা প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যেকার আত্মিক টান কতটা গভীর। আজকের এই ১৪ কিলোমিটারের সফর কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং তা কাশীর সংস্কৃতির এক অনন্য কোলাজ হয়ে রইল।