বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে ইতি টানতে নয়া নির্দেশে না সুপ্রিম কোর্টের! কেন বলল, ‘বিদ্যমান আইনই যথেষ্ট’?

দেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা ‘হেট স্পিচ’ (Hate Speech) নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন করে কোনো নির্দেশিকা জারি করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এক ঐতিহাসিক রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের অপরাধ দমনের জন্য বর্তমান আইনই যথেষ্ট। নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা আদালতের কাজ নয়, বরং তা আইনসভার এক্তিভুক্ত।

“আইন গড়া আমাদের কাজ নয়”: কড়া বার্তা আদালতের
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে দেয়। রায় দিতে গিয়ে বেঞ্চ জানায়:

সংবিধানের সীমা: আদালত আইনের ব্যাখ্যা করতে পারে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সংসদ বা বিধানসভাকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করতে পারে না।

আইনসভার ক্ষমতা: কোনো কাজকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা বা তার জন্য নতুন আইন তৈরি করার পূর্ণ ক্ষমতা কেবল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের (সংসদ ও বিধানসভা) হাতেই ন্যস্ত।

আইনের অভাব নয়, অভাব যথাযথ প্রয়োগের!
আদালত তার পর্যবেক্ষণে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছে। বেঞ্চের মতে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ক্ষেত্রে কোনো ‘আইনি শূন্যতা’ নেই। সমস্যাটি আইনের অভাব নয়, বরং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: “বিএনএসএস (BNSS) এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধির অধীনে বর্তমানে যে আইনি কাঠামো রয়েছে, তা এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ এবং ব্যাপক। বিশেষ করে ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানমূলক ক্ষমতা অনেক বিস্তৃত।”

হাইকোর্টেই মিলবে প্রতিকার
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ে যদি কারও উদ্বেগ থাকে, তবে তাঁরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে আবেদন করতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের একটি অনুলিপি প্রতিটি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

প্রেক্ষাপট: ২০২০-র সেই উত্তাল সময়
২০২০ সালে দিল্লির দাঙ্গা এবং করোনা আবহে সোশ্যাল মিডিয়া ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বয়ান ছড়ানোর অভিযোগে একগুচ্ছ জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, দেশে বিদ্বেষ রুখতে সুপ্রিম কোর্ট নতুন কঠোর নির্দেশিকা জারি করুক। কিন্তু দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত জানিয়ে দিল, বিদ্যমান আইনি কাঠামোই এর জন্য পর্যাপ্ত।

বিদ্বেষ ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা
নির্দেশিকা দিতে অস্বীকার করলেও আদালত স্বীকার করেছে যে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং গুজব ছড়ানোর বিষয়টি দেশের ভ্রাতৃত্ব, মানুষের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষার পরিপন্থী। তবে আদালত মনে করে, প্রশাসন যদি বিদ্যমান আইনগুলি সঠিকভাবে ব্যবহার করে, তবেই এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব।

Saheli Saha
  • Saheli Saha