“খেলা শুরুর আগেই শেষ, মাঠ এবার পুরো খালি!”— দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতেই বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার রণদামামা বাজতেই রাজনীতির ময়দানে চড়ল পারদ। একদিকে যখন বুথে বুথে লম্বা লাইন, অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করল— বাংলায় তৃণমূলের দিন ঘনিয়ে এসেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাফ কথা, “খেলা শুরুর আগেই খেলা শেষ।” অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের ভবিষ্যৎবাণী, “এবারই তৃণমূল শেষবারের মতো বিধানসভা ভোটে লড়ছে।”

“মুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার ছিঁড়ছে? মানুষ জেগেছে!”
এদিন সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর সমর্থনে লাগানো ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় শমীক ভট্টাচার্য কিছুটা উপহাসের সুরেই বলেন:

“রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার খুলে দেওয়ার মতো সাহস কার আছে? আসলে মানুষ এবার জেগে উঠেছে। আগে আমরা বাজার করেছি, বাড়ি বাড়ি ঘুরেছি, আর আজ বুথে বুথে ঘুরছি। সব শেষ, খেলা শেষ!”

অবজারভারদের ‘হুমকি’ ও বুথ জ্যাম প্রসঙ্গ
বুথ জ্যাম রুখতে অবজারভারদের সক্রিয়তা নিয়ে শমীক জানান, অবজারভাররা যদি হুমকি না দেন, তবে কাজ করবেন কী করে? রিগিং রুখতে তাঁদের কড়া হওয়াটাই দস্তুর। ভোটদানের হার কিছু জায়গায় কম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যাপক তল্লাশি ও চেকিংয়ের কারণেই ভিড় কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, “প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে একটু বেশি জ্বলে ওঠে, তৃণমূলের গণ্ডগোলও ঠিক তেমন।”

“তৃণমূলের এটাই শেষ কামড়”: দিলীপ ঘোষ
সকাল সকাল প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে স্বমেজাজে ধরা দিলেন মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে এবার বাংলায় পদ্ম শিবির সরকার গড়ছে।

দিলীপের আক্রমণের মূল পয়েন্ট:

শেষ লড়াই: তৃণমূল এবার দাঁত কামড়ে পড়ে রয়েছে কারণ তারা জানে এটাই তাদের শেষ লড়াই।

রিগিংয়ে বাধা: এতদিন রিগিং করে জিতলেও এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে তা সম্ভব হচ্ছে না।

টাকা বিলি: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও (সত্যতা যাচাই করা হয়নি) প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ বলেন, “তৃণমূলের অনেক টাকা, তাই ভোট কিনতে চাইছে। কিন্তু এবার মানুষ বিক্রি হবে না।”

থানার সামনে বিক্ষোভ ও সমাজবিরোধী প্রসঙ্গ
সিঙ্গুরের বেচারাম মান্নার থানার সামনে বিক্ষোভ নিয়ে দিলীপ ঘোষের টিপ্পনী, “যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তারা তৃণমূল কর্মী না কি সমাজবিরোধী? গোটা দলটাই এখন অসামাজিক তত্ত্বে ভরে গিয়েছে।” তবে অশান্তির আশঙ্কার মাঝেও সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে এবং সকাল সকাল ভোট দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

Saheli Saha
  • Saheli Saha