হবু মা ক্যান্সার আক্রান্ত হলে শিশুর ভবিষ্যৎ কী? চিকিৎসায় কি সন্তানের ক্ষতি হতে পারে? আতঙ্কিত না হয়ে জেনে নিন আসল তথ্য

গর্ভাবস্থা একটি নারীর জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক সময়। কিন্তু এই সময়ে যদি মারণ রোগ ক্যান্সারের ছায়া পড়ে, তবে সেই আনন্দ মুহূর্তেই উদ্বেগে পরিণত হয়। গর্ভাবস্থায় ক্যান্সার হওয়া একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর অবস্থা। মায়েদের মনে সবচেয়ে বড় ভয় থাকে— এই রোগ কি তাঁর অনাগত সন্তানকেও গ্রাস করবে?

ক্যান্সার কি মায়ের শরীর থেকে শিশুর দেহে ছড়ায়?
আরএমএল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালোনি চাড্ডা এই বিষয়ে অভয় দিয়েছেন। তাঁর মতে, ক্যান্সার সাধারণত সরাসরি মায়ের শরীর থেকে শিশুর দেহে ছড়ায় না। তবে মায়ের শারীরিক অবস্থা যদি খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে পরোক্ষভাবে তা শিশুর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় চিকিৎসার ঝুঁকি ও সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় শরীরে নানাবিধ হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, যা ক্যান্সারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:

প্রথম ত্রৈমাসিক: গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক মাসে ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠিত হয়। এই সময় কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ বা থেরাপি শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

চিকিৎসার ধরন: মা ও শিশু—উভয়ের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে চিকিৎসকরা এমন সব ওষুধ বা থেরাপি বেছে নেন যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ন্যূনতম।

সঠিক সময়: ক্যান্সারের পর্যায় এবং গর্ভাবস্থার বর্তমান সময়কাল বিচার করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বোর্ড সম্মিলিতভাবে চিকিৎসার পরিকল্পনা করেন।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই মূল মন্ত্র
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় ক্যান্সার ধরা পড়লে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে মা ও শিশু উভয়কেই সুস্থ রাখা সম্ভব।

মনে রাখা জরুরি:

নিজের শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা পিণ্ড (Lump) অনুভব করলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।

ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক প্রশান্তি অত্যন্ত প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ভেষজ বা বিকল্প ওষুধ সেবন করবেন না।

গর্ভাবস্থায় ক্যান্সার একটি কঠিন যুদ্ধ হতে পারে, কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আশীর্বাদে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে মা ও শিশুর জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha