ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের মেগা ডিল! দিল্লিতে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্য থেকে মহাকাশ— একগুচ্ছ চুক্তিতে সই জয়শঙ্করের

ভারত ও ল্যাটিন আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে সূচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। তিন দিনের ভারত সফরে আজ বুধবার নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছালেন ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা সোমারফেল্ড রোসেরো। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। এই প্রথমবার গ্যাব্রিয়েলা ভারত সফরে এলেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বাণিজ্য ও ডিজিটাল খাতে বড় গাঁটছড়া
ডঃ এস. জয়শঙ্কর ও গ্যাব্রিয়েলা সোমারফেল্ডের মধ্যে হওয়া এই বৈঠকে মূলত গুরুত্ব পেয়েছে ৫টি বিষয়— বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, কৃষি, ডিজিটাল ক্ষেত্র এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি। দুই দেশই সম্মত হয়েছে যে, বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে ভারত ও ইকুয়েডর একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করবে।
ইসরো ও পরিবেশ রক্ষায় ভারতের পাশে ইকুয়েডর
ভারতের নেতৃত্বে চলা আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (IBCA)-তে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইকুয়েডর। জয়শঙ্কর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি আমাদের উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। এছাড়াও, দ্রুত প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রকল্পগুলো (Quick Impact Projects) বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মহাত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক ব্যস্ততা
সফরের শুরুতেই বিদেশমন্ত্রী সোমারফেল্ড রাজঘাটে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ডঃ জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন:
“ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা বাণিজ্য, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল সেক্টরে সহযোগিতা গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।”
মেগা বৈঠকের সিলসিলা
আজ সন্ধ্যায় ইকুয়েডরের মন্ত্রী ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেই ভারত কুইটোতে তার আবাসিক দূতাবাস উদ্বোধন করেছে, যা প্রমাণ করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়াতে কতটা মরিয়া ভারত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই সফরটি ভারতের ‘গ্লোবাল সাউথ’ নেতৃত্বের দর্শনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ল্যাটিন আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশের পথ প্রশস্ত করবে।