খুনি হয়েও মুক্ত সোনম! মেঘালয়ে স্বামীকে ‘খুন’ করে কীভাবে জামিন পেলেন ইন্দোরের এই বধূ?

মেঘালয়ের পাহাড়ে হানিমুনে গিয়ে স্বামী রাজাকে খুনের দায়ে অভিযুক্ত সেই সোনম রঘুবংশী অবশেষে জেলমুক্ত। ইন্দোরের চাঞ্চল্যকর ‘রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড’-এর মূল অভিযুক্ত প্রায় ১১ মাস পর শিলং আদালত থেকে জামিন পেলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন খুনের আসামী কীভাবে এত সহজে ছাড়া পেলেন? তদন্তে বেরিয়ে এল পুলিশের এমন কিছু গাফিলতি, যা কার্যত সোনমকে আইনি সুরক্ষা দিয়ে দিয়েছে।

কেন জামিন পেলেন সোনম? পুলিশের ৫টি বড় ব্লান্ডার:
আদালতের নির্দেশে পুলিশের তদন্তের যে ফাঁকফোকরগুলো সামনে এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো:

১. ভুল ধারার প্রয়োগ: তদন্তকারী অফিসাররা কেস ডায়েরিতে খুনের ধারা হিসেবে বিএনএসএস-এর ১০৩(১)-এর বদলে ভুল করে ৪০৩(১) লিখেছিলেন। আইনের লড়াইয়ে এই সামান্য সংখ্যার ভুলই সোনমের আইনজীবীর বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।
২. গ্রেফতারির গরমিল: ২০২৫ সালের ৭ জুন যখন গাজিপুর থেকে সোনমকে ধরা হয়, তখন গ্রেফতারির মেমোতে সময় এবং কারণ স্পষ্ট ছিল না।
৩. অধিকার হরণ: আইন অনুযায়ী, অভিযুক্তকে তার অপরাধ এবং ধারা সম্পর্কে জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সোনমকে গ্রেফতারের সময় সেই নিয়ম মানা হয়নি।
৪. আইনি সহায়তার অভাব: পুলিশের ডায়েরিতে এমন কোনো রেকর্ড নেই যা প্রমাণ করে যে গ্রেফতারির পর সোনমকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
৫. কাগজপত্রের অমিল: গ্রেফতারির কাগজে যে ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে মূল অভিযোগের কোনো মিল খুঁজে পায়নি আদালত।

ফিরে দেখা: কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত হানিমুনে?
২০২৫ সালের ১১ মে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল ইন্দোরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে সোনমের। বিয়ের কয়েকদিন পরেই তারা মেঘালয়ে হানিমুনে যান।

২৩ মে: হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান রাজা।

২ জুন: পূর্ব খাসি হিলসের সোহরা (চেরাপুঞ্জি)-র এক গভীর খাদ থেকে রাজার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তের মোড়: অভিযোগ ওঠে, সোনম তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে রাজাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপরই গাজিপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার: “টাকার জোরে সব হয়”
ছেলের খুনি জামিন পাওয়ায় দিশেহারা রাজার পরিবার। মা উমা রঘুবংশী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “টাকার জোরে আজ খুনিও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।” রাজার বাবা ও ভাই জানিয়েছেন, তারা এই জামিনের বিরুদ্ধে দ্রুত হাইকোর্টে আবেদন করবেন। তাদের দাবি, পুলিশের গাফিলতির দায় যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা না হয়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha