ভাঙড়ে শওকত বনাম নওশাদ! ‘পুলিশি গুন্ডামি’ বনাম ‘বোমাবাজি’, ভোটের সকালে অগ্নিগর্ভ দক্ষিণ ২৪ পরগনা

ভোট উৎসবের মাঝেই রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরুর আগে মঙ্গলবার রাত থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা কাঠগড়ায় তুলছেন পুলিশকে, অন্যদিকে আইএসএফ প্রধান নওশাদ সিদ্দিকীর নিশানায় খোদ শাসকদল।

শওকতের নিশানায় ‘পুলিশি গুন্ডামি’
তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা এদিন পুলিশের বিরুদ্ধেই নজিরবিহীন অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। শওকত বলেন:

“পুলিশ রীতিমতো গুন্ডামি করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয়েছে, আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি। আসলে পুলিশ সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।”

নওশাদের চ্যালেঞ্জ: ‘৫০ হাজারে হারাব’
পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। নওশাদের দাবি:

একাধিক এলাকায় রাতে বোমা ছোড়া হয়েছে।

ভোটারদের বুথে না যাওয়ার জন্য শাসানো হচ্ছে।

তবে ভাঙড়ের মানুষ ভয় পাবে না। তৃণমূলকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আমরা ফের বিধানসভায় ফিরব।

নওশাদ আরও জানান, তৃণমূলের প্রতিটি ‘বেআইনি’ কাজের রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনকে ইমেল করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

এক নজরে দ্বিতীয় দফার পরিসংখ্যান:
আজকের এই মহারণে নজর রয়েছে ১,৪৪৮ জন প্রার্থীর ওপর। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে:

মোট ভোটার: ৩.২২ কোটিরও বেশি।

ভোটকেন্দ্র: ৪১,০০১টি (সবকটিতেই থাকছে ওয়েবকাস্টিং)।

বিশেষত্ব: ৮,৮৪৫টি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলারা পরিচালনা করছেন।

শতায়ু ভোটার: ৩,২০০-র বেশি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আজ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

প্রথম দফায় ৯১.৭৮ শতাংশের রেকর্ড ভোটের পর দ্বিতীয় দফাতেও ভাঙড় ও অন্যান্য কেন্দ্রে ভোটের হার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার। তবে ভাঙড়ের রাজনৈতিক হিংসা প্রশাসনের রক্তচাপ যে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।